বন সহায়ক নিয়োগ সহ একাধিক দাবিতে রেঞ্জ ও বিট অফিসে তালা

216
জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জে বনবস্তির বাসিন্দাদের বিক্ষোভ।

শালকুমারহাট: চিলাপাতার পর এবার জলদাপাড়াতেও শুরু হল বনবস্তিবাসীদের আন্দোলন। শনিবার জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জ ও বিট অফিসে বন সহায়ক নিয়োগ সহ একাধিক দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান শালকুমারহাটের রাভা বনবস্তির কয়েকশো বাসিন্দা। এদিন শালকুমারহাট বন গ্রামসভার তরফে বন দপ্তরের আধিকারিকদের ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। পরে রেঞ্জ ও বিট অফিসে তালা লাগিয়ে দেন বনবস্তির বাসিন্দারা। এদিকে, বন দপ্তরের স্থানীয় কর্তাদের দাবি, বনবস্তিবাসীদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের চিলাপাতায় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বনবস্তির বাসিন্দারা। সূত্রের খবর, সেই আন্দোলনের প্রভাবে এবার অন্য বনবস্তির বাসিন্দারাও ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জের বিছনবাড়ি ফরেস্টে রাভাদের বসবাস। এখানে প্রায় ৫০০ রাভা জনজাতির মানুষ বসবাস করেন। এই বস্তির পাশেই রয়েছে শালকুমারহাট বিট অফিস। বস্তি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের শালকুমার মোড়ে অবস্থিত রেঞ্জ অফিস। এদিন বস্তির প্রায় ৩০০ পুরষ-মহিলারা সঞ্জয় বাজারে জমায়েত হন। সেখান থেকে বিশাল মিছিল করে তাঁরা রেঞ্জ অফিসে পৌঁছান। সেখানে প্রথমে বস্তিবাসীদের সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ ও বনকর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই বাধা টপকে আন্দোলনকারীরা রেঞ্জ অফিস চত্বরে প্রবেশ করেন। সেখানে দীর্ঘ সময় চলে অবস্থান বিক্ষোভ। বনকর্তাদের নানা দাবিতে ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। পরে রেঞ্জ অফিসের পাশাপাশি বিট অফিসেও তালা ঝোলানো হয়।

- Advertisement -

শালকুমারহাট বন গ্রাম সভার সভাপতি রাম রাভা ও সম্পাদক নীলকমল রাভা জানান, বনবস্তির বাসিন্দাদের মধ্য থেকেই বনসহায়ক পদে নিয়োগ করতে হবে। ফরেস্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ চালু করতে হবে। সূত্রের খবর, জমির পাট্টা নিয়েও রাভা বস্তির বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কয়েক বছর আগে এই বস্তির বাসিন্দাদের বন দপ্তরের তরফে জমির পাট্টা দেওয়া হয়। কিন্তু ওই পাট্টার মাধ্যমে সরকারি অন্য কোনও সুযোগ সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। স্থানীয় মন্টু রাভা বলেন, ‘ওই পাট্টাতে জমির দাগ, খতিয়ান নম্বরের কোনও উল্লেখ নেই। অন্য কোনও সরকারি সুবিধাও মেলে না। তাই অন্য ভূমিহীনদের মত আমাদেরও জমির পাট্টা দিতে হবে। এদিন সেই দাবিও তোলা হয়।’

তবে বনবস্তিবাসীদের এদিনের হঠকারী আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বন দপ্তর সূত্রের খবর, আগাম না জানিয়েই এদিন হঠাৎ করে বহু মানুষ মিছিল করে রেঞ্জ অফিসে জমায়ত হন। এতে বনকর্মীরাও অবাক হয়ে যান। জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জার সন্দিপ দাস বলেন, ‘এদিন যা হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের সামনেই হয়েছে। আইন শৃঙ্খলার কোনও পরোয়া করা হয়নি। আমাদের আগে থেকে এব্যাপারে কিছু জানানোও হয়নি। আমরা কথা বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেটাও করেননি। পুরো বিষয়টি উপরমহলে জানানো হয়েছে। এখন যেভাবে নির্দেশ আসবে, সেভাবেই কাজ করা হবে।’