নিকাশি নালা ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে ধান লাগিয়ে বিক্ষোভ

150

মুরতুজ আলম, সামসী: নিকাশি নালা ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে চাঁচল-১ ব্লকের দুটি জায়গায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা শুক্রবার। এদিন চাঁচল-আশাপুর রাজ্য সড়কের মধ্যে আশাপুর বাস স্ট্যান্ডে নিকাশি নালা নির্মাণের দাবিতে ঘন্টা খানেক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এলাকার শতাধিক মানুষ। অন্যদিকে, এদিন চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নওগাছিয়া গ্রামেও কাঁচা রাস্তা পাকা করা এবং নিকাশি নালা নির্মাণের দাবিতে রাস্তায় ধানের চারা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁচল-আশাপুর রাজ্য সড়ক আশাপুর বাস স্ট্যান্ডের প্রায় দু’শো মিটার পাকা রাস্তা জুড়ে একটু আধটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান জল জমে যায়। কোনো নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা জল জমে থাকে আশাপুরে।সমস্যা সমাধানের জন্য বাসিন্দারা বর্ষার আগেই নিকাশি নালা নির্মাণের দাবি করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনো হেলদোল না থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আশাপুর বাস স্ট্যান্ডে জল জমে একাকার।তাই এদিন নিকাশি নালা নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শতাধিক এলাকার বাসিন্দা।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, আশাপুরে রাস্তার দুই ধারেই দোকান পাট রয়েছে। বৃষ্টির জল রাস্তায় জমে থাকায় দোকান ব্যবসায়ী তথা ক্রেতাদের ভীষণ সমস্যা হয়।আশাপুর বাস স্ট্যান্ডে বাস ধরতে আসা যাত্রীদেরও জল-কাঁদায় নানা সমস্যা হয়। তাই আশাপুরে নিকাশি নালা নির্মাণের খুবই দরকার।যদিও প্রশাসনের আশ্বাসে ঘন্টা খানেক বিক্ষোভের পর তা তুলে নেন এলাকাবাসীরা।

এদিকে,একইদিনে চাঁচল জিপির নওগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দারাও গ্রামের রাস্তা পাকা এবং নিকাশি নালা নির্মাণের দাবিতে গ্রামের বেহাল রাস্তায় ধানের চারা লাগিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।গ্রামের বাসিন্দা ফিরদৌস আলম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন,প্রায় এক কিমির মতো গ্রামের রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে বেহাল অবস্থায় ধুঁকছে। গ্রামের এই কাঁচা রাস্তাটি পাকা করার জন্য পঞ্চায়েত,পঞ্চায়েত সমিতি,জেলা পরিষদ,এসডিও,বিডিওকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু সবাই নিশ্চুপ। কারোরই কোনো হেলদোল নেই।

গ্রামের আরো এক বাসিন্দা রফিকুল আলি অভিযোগের সুরে বলেন,রাস্তাটি দিয়ে নওগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দারা ছাড়াও পাশের রানিকামাত, কনুয়া, রামপুর, জয় বাংলা প্রভৃতি গ্রামের গ্রামের মানুষেরাও নিত্য প্রয়োজনে যাতায়ত করে থাকেন।কিন্তু বর্ষাকালে গ্রামের রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে থাকে। নিকাশি নালা না থাকায় রাস্তার জমে থাকা নোংরা জলও বাড়িতে ঢুকে পড়ে।থিকথিকে কাঁদা ও হাঁটু সমান জলের উপর দিয়েই প্যান্ট-লুঙ্গি গুটিয়ে যাতায়ত করতে হয়।

গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল আলি বলেন,অফিস-কাঁচারির কর্মচারী,আশা কর্মী,ব্যাংক কর্মী,স্বাস্থ্যকর্মী,স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরাও এই রাস্তা দিহেই যাতায়ত করে থাকেন।রাস্তার বেহাল অবস্থার দরুন মুমূর্ষ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও ভীষণ সমস্যা হচ্ছে।বেহাল রাস্তায় এম্বুলেন্স চলেনা।তাই বেহাল রাস্তা দড়ির খাটিয়াতে করে পার করে তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।এনিয়ে পাকা রাস্তা ও নিকাশি নালা নির্মাণের জন্য সবার মধ্যেই ক্ষোভ বাড়ছে।

এক গৃহবধূ রাখি বিবি বলেন,গ্রামের রাস্তাটি পাকা করার জন্য হাজারো প্রতিশ্রুতি পেয়েছি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।কিন্তু এখন পর্যন্ত পাকা রাস্তার কোনো নামগন্ধ নেই।তাই শুক্রবার গ্রামের বেহাল কাঁচা রাস্তা পাকা করার জন্য এবং নিকাশি নালা নির্মাণের দাবিতে রাস্তার জমা জলে ধানের চারা লাগিয়ে অভিনব বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। খুব শীঘ্রই গ্রামবাসীদের পাকা রাস্তা ও নিকাশি নালা নির্মাণের দাবি পূরণ না হলে এলাকা জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন বাসিন্দারা।

চাঁচল-১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য বলেন,আশাপুরে নিকাশি নালা নির্মাণের জন্য পিডব্লিউডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে,নওগাছিয়া গ্রামের বেহাল রাস্তা ও নিকাশি নালা নির্মাণের জন্য চাঁচল পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।যাতে খুব তৎপরতার সাথে বিষয়টি দেখা হয়।