বকেয়া সব পাক্ষিক মজুরি প্রদানের দাবিতে চা বাগানে বিক্ষোভ

89

মালবাজার: বকেয়া সব পাক্ষিক মজুরি প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্বরা। বুধবার মাল ব্লকের ডামডিম গ্রাম পঞ্চায়েতের কুমলাই চা বাগানের কারখানার গেটের বাইরে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া সব পাক্ষিক মজুরি প্রদান করতেই হবে। আলোচনার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। এদিন দুপুর থেকে বাগানে একটি পাক্ষিক মজুরি প্রদান করা হয়েছে। মাল ব্লক প্রশাসন সহ শ্রমবিভাগ কুমলাই চা বাগানের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

বাগানে শ্রমিক কর্মচারীদের মোট সংখ্যা ১১১৮। বাগানে বেশ কিছুদিন যাবৎ পাক্ষিক মজুরি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। বাগানের প্রধান ডিভিশনের পাশাপাশি নয়াকামান ডিভিশনের শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান। দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। বাগানের শ্রমিক নেতা ইন্দ্রজিত দাস, অমরদান বাকলা, সুহাস রায় চৌধুরী, অর্জুন ওরাওঁ প্রমুখ শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন। গেট মিটিংয়ে তুমুল স্লোগানও দেওয়া হয়।

- Advertisement -

শ্রমিক নেতৃত্বরা বাগানের কারখানার গেটের বাইরে সকালে গেট মিটিংয়ে বলেন, ‘কুমলাই চা বাগানে পাক্ষিক মজুরি প্রদান নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। ৯ জানুয়ারি শেষবার পাক্ষিক মজুরি দেওয়া হয়েছিল। চা শ্রমিকদের আবাসনও মেরামতি হচ্ছে না। সব মিলিয়ে তিনটি পাক্ষিক মজুরি এখনও পর্যন্ত বাকি। অবিলম্বে সমস্যা মেটাতে হবে। বিফো গোয়ালা নামে এক শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের বাগানে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুয়িটি সহ অন্যান্য সমস্যাও আছে। শেষ পর্যন্ত বাগানের ম্যানেজার সহ অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনার পর আন্দোলন এদিনকার মতো আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।’ এদিন দুপুর থেকে শ্রমিকদের একটি পাক্ষিক মজুরি দেওয়া হয়েছে। চা শ্রমিক নেতারা বলেন, এখনও দুটি পাক্ষিক মজুরি বাকি।

বাগানের ম্যানেজার ভরত শর্মা বলেন, ‘একটি পাক্ষিক মজুরি দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বকেয়া দুটি পাক্ষিক মজুরিও প্রদান করা হবে। আমরা পরবর্তীতে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি সহ অন্যান্য সমস্যাও মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দেব। তিনি শ্রমিকদের সহযোগিতা চান। মালবাজারের শ্রমবিভাগের আধিকারিকেরা কুমলাই চা বাগানের বর্তমান পরিস্থিতি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। মালের বিডিও শুভজিৎ দাসগুপ্ত বলেন, ‘আমি কুমলাই চা বাগানের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি।’