লাইনে দাঁড়িয়েও ভ্যাকসিন না পেয়ে বিক্ষোভ, আপাতত দ্বিতীয় ডোজে অগ্রাধিকার

70

আসানসোল: করোনার ভ্যাকসিন মিলছে না। তাই বন্ধ পশ্চিম বর্ধমান জেলার অধিকাংশ ভ্যাকসিন সেন্টার। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, জেলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১২৫টি সেন্টার নির্দিষ্ট রয়েছে। তারমধ্যে ভ্যাকসিনের অভাবে ১১৩টি সেন্টার বন্ধ রয়েছে। বাকি ১২টি সেন্টার খুলে রেখে কমবেশি ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য অনেক মানুষ লাইন দিয়েছিলেন। তাদের অধিকাংশই প্রথমবার ভ্যাকসিন নেবেন বলে এসেছিলেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তাদেরকে বলা হয় একমাত্র যারা দ্বিতীয় ডোজের জন্য এসেছেন তাদেরকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। অন্য কাউকে এখন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। এরপরেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সকলেই এনিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অশ্বিনী কুমার মাজি বলেন, ‘যাদের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কথা তাদেরকে এখন ভ্যাকসিন দেওয়ায় অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এই মুহুর্তে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের হাতে মাত্র ২৩ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন আছে। সোমবার এসেছিল ১৫ হাজার। মঙ্গলবার এসেছে আরও ৮ হাজার।’ হাসপাতাল সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের কিছু করার নেই। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় ডোজের জন্য যারা এসেছেন তাদেরকে আগে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তারপর প্রথম ডোজ দেওয়ার কথা ভাবা হবে।’

- Advertisement -

অন্যদিকে, করোনা সংক্রমণের জেরে বেহাল অবস্থা আসানসোলের সালানপুর ব্লক হাসপাতালে। যে দু’জন ল্যাব টেকনিশিয়ান এই হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য লালার নমুনা সংগ্রহ করতেন তাঁরা দুজনই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরে বুধবার সকাল থেকে এই হাসপাতালে যাবতীয় করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবার কবে কীভাবে এই ব্যবস্থা চালু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিন সকালে যথারীতি করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে লম্বা লাইন পড়েছিল। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুব্রত শিট নিজে নাম নথিভুক্ত করার কাজ করছিলেন।

ইতিমধ্যে তাঁর কাছে খবর যায় ল্যাব টেকনিশিয়ান অসুস্থ। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল থেকে গাড়ি পাঠিয়ে তাকে বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্রুত পরীক্ষা করলে জানা যায় তিনি করোনা পজিটিভ। এরপরই হাসপাতালের তরফে জানান হয়, এই হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করার মত অভিজ্ঞ আর কেউ নেই। ফলে করোনা পরীক্ষা আপাতত বন্ধ থাকবে। আক্রান্ত ওই ল্যাব টেকনিশিয়ানকে সনোকা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই হাসপাতালে একটিও বেড খালি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ওষুধ দিয়ে তাকে হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে করোনা পরীক্ষা করাতে যাওয়া লোকেরা চরম সমস্যার মধ্যে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। কিন্তু কবে করোনা পরীক্ষা চালু হবে তা কেউ বলতে পারছেন না।