মিছিল-বিক্ষোভে উত্তাল জলপাইগুড়ি, অসহায় পুলিশ

512

জলপাইগুড়ি: একের পর এক মিছিল-বিক্ষোভ সামলাতে নাজেহাল হল পুলিশ। একাধিক বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনের তরফে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতে আইন অমান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি এদিন আদিবাসী বিকাশ পরিষদ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও মিছিল করেন। বিকাশ পরিষদের মিছিলে হাজার তিনেক লোক ছিল। তাঁদের হাতে তির-ধনুকও ছিল। একাধিক কর্মসূচি ঘিরে এদিন জলপাইগুড়ি জেলা শাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারের অফিস লাগোয়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। নাজেহাল হন শহরবাসী। একদিনে এতগুলি বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি কেন দেওয়া হল, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে।

বামপন্থী সংগঠনগুলোর আইন অমান্যে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ হাজারের বেশি ছাত্র-যুব। আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে পুলিশকে কার্যত হিমসিম খেতে হয়। ডিওয়াইএফআইয়ের কর্মী-সমর্থকরা তিনটি পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে দেন। ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সমীর পাল এবং আইসি বিপুল সিনহার নেতৃত্বে পুলিশবাহিনী জেলা শাসকের দপ্তরের ঢোকা থেকে বিক্ষোভকারীদের আটকান। জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি ব্লক থেকে গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন, বিপ্লবী যুব ফ্রন্ট, যুব লিগ এবং সিপিআইয়ের যুব সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা শহরের আইএমএ ময়দানে এসে সমবেত হন।

- Advertisement -

গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের রাজ্য সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, জেলা সম্পাদক প্রদীপ দে, বিপ্লবী যুব ফ্রন্টের বিশ্বজিৎ সরকার, যুব লিগের সুরেশ রায় এবং সিপিআইয়ের যুব সংগঠনের গৌতম দাসের নেতৃত্বে এদিন মিছিল বের হয়। মিছিলটি দিনবাজার, বেগুনটারি, কদমতলা, ডিবিসি রোড, থানা মোড়, বড় পোস্টঅফিস মোড় হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ পিডব্লিউডি মোড়ে উপস্থিত হয়। সেখানে পুলিশ প্রথমে ব্যারিকেড করেছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। ব্যারিকেড ভেঙে এরপর তাঁরা জেলা শাসকের দপ্তরের দিকে অগ্রসর হন। সার্কিট হাউস এলাকায় দ্বিতীয় ব্যারিকেডে পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীর সামনে পুলিশ কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় ব্যারিকেডও ভেঙে দেন আন্দোলনকারীরা। জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে তৃতীয় ব্যারিকেডও বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনের সদস্যরা ভেঙে ফেলেন।

সংগঠন সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি জেলায় কর্মসংস্থান, শিল্পায়ণ, চা শ্রমিকদের মজুরি চুক্তি, ক্রান্তি এবং ঘুঘুডাঙায় কলেজ স্থাপন, ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে ২০০ দিনের কাজ, ধূপগুড়িকে মহকুমার স্বীকৃতি সহ ১০ দফা দাবিতে এদিন আইন অমান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের রাজ্য নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এদিন দাবি করেন, ’মা-মাটি-মানুষের সরকারের বিদায় আসন্ন। এই সরকার সবক্ষেত্রে ব্যর্থ।’