রায়মাটাং বিট অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

196

কালচিনি: পর্যটকদের গ্রামে প্রবেশ আটকে দিয়েছে বনদপ্তর। ফলে কালচিনি ব্লকের রায়মাটাং বনবস্তিতে বনদপ্তরের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছিল। রবিবার সেই ক্ষোভই বিক্ষোভের আকার নিল বক্সা পাহাড়ের রায়মাটাং বনবস্তিতে। এদিন গ্ৰামবাসীরা বনদপ্তরের রায়মাটাং বিট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভে শামিল হন আলিপুরদুয়ার জেলা টুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রায়মাটাংয়ে পর্যটক ও বহিরাগতদের গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না বনদপ্তর। নয়াবস্তির এসবি ক্যাম্পের কাছে গ্ৰামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তায় বনদপ্তর নতুন চেকপোস্ট তৈরি করে পর্যটক ও বাইরে থেকে আসা মানুষকে আটকে দিচ্ছেন বনকর্মীরা। ফলে পর্যটন নির্ভর রায়মাটাং বনবস্তির বাসিন্দাদের রুজিরুটি বন্ধের মুখে। সেকারণেই আন্দোলন শুরু করেছেন বাসিন্দারা। যদিও বনদপ্তরের তরফে এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

- Advertisement -

এদিন সকাল থেকেই রায়মাটাং বনবস্তি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীন পানা রেঞ্জের রায়মাটাং বিট অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে বিক্ষোভ থামিয়ে বিভিন্ন দাবিতে ওই বিট অফিসের আধিকারিককে স্মারকলিপি তুলে দেন তাঁরা। রায়মাটাং বনবস্তির গ্রামসভার তরফে সরজু কার্কি অভিযোগ করে বলেন, ‘রায়মাটাং বনবস্তিবাসী পর্যটন শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। পর্যটনকে কেন্দ্র করে সেখানে একাধিক হোমস্টে তৈরি করেছেন গ্ৰামবাসীরা। করোনা সংক্রমণের জন্য দীর্ঘদিন পর্যটক শূন্য ছিল ওই বনবস্তি। দুই এক মাস ধরে ধীরে ধীরে পর্যটক আসতে শুরু করলেও দিন সাতেক আগে পর্যটকদের আসা বন্ধ করে দিয়েছে বনদপ্তর।’ টুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তারাশংকর থাপা বলেন, ‘বনদপ্তরের এমন সিদ্ধান্তে এলাকার পর্যটন ক্ষতিগ্ৰস্ত হচ্ছে।’

একাংশ গ্রামবাসীর অভিযোগ, রায়মাটাং বস্তি সংলগ্ন আদমা বনবস্তিতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বনকর্মীরা অত্যাচার চালান। সেখানে ডুকপা জনজাতির মানুষদের ছাগলের ঘর ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এছাড়া সবজি বাগানও তছনছ করেন বনকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই রবিবার তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বলে জানান গ্ৰামবাসীরা। বনদপ্তর এসব বন্ধ না করলে আরও বড় আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়েছেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা শুভঙ্কর সেনগুপ্ত। যদিও বনদপ্তরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংরক্ষিত জঙ্গলে পর্যটকদের বেপরোয়া গতিবিধি বন্ধ করতে ওই গ্রামে পর্যটকদের আসা আপাতত বন্ধ রেখেছে বনদপ্তর। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। এছাড়া ওই এলাকায় বনদপ্তরের জমিতে অবৈধ চাষবাস বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে বনদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।