বালাভুত ঘাট খোলার দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ

274

তুফানগঞ্জ: প্রায় ৪৫ দিন থেকে বন্ধ ঘাট। সমস্যায় পড়েছেন বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েতের চর বালাভুতের প্রায় ৬ হাজার মানুষ। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে বালাভুত ঘাট পাড়ে দফায় দফায় চলে বিক্ষোভ। স্থানীয়রা ঘাট পাড় করে বালাভুতে আসতে চাইলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম চর বালাভুতে যেতে চাইলে তাদেরও ঘাট পাড়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকা এই চর বালাভুত। এই গ্রামের তিনদিকে রয়েছে নদী। অন্যদিকে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। এই এলাকায় আবার কাঁটাতারও নেই। চর বালাভুতে যেতে হলে পার করতে হয় কালজানি নদীর ঘাট। এই ঘাটপারেই বসেছে বিএসএফ-এর পাহারা। যা মূল সীমান্ত থেকে ৪ কিলোমিটার ভেতরে।

- Advertisement -

লকডাউনের পর বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েতের চর বালাভুত, চর ঝাউকুঠি, মধ্যচর এলাকা সিল করে দেয় বিএসএফ। এই এলাকাগুলিতে সাধারণ মানুষের বের হওয়া ও প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যে কারণে সমস্যা তৈরি হয় এলাকায়। সাধারণ মানুষকে র‍্যাশন, ব্যাংকিং পরিষেবা এবং চিকিৎসা ব্যাবস্থা থেকেও বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে এই সময়ে। প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে এমনটা মেনে নিয়ে প্রথম থেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা। কিন্তু লকডাউনের ৪৫ দিনে এসে সেই বাঁধ ভেঙেছে।

এদিন সকালে চর বালাভুতের বাসিন্দা আবুল ফজল সরকার ওষুধ কিনতে বালাভুতে আসার প্রার্থনা জানায় বিএসএফ-এর কাছে। বিএসএফ তাঁকে অনুমতি না দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চর বালাভুতের সাধারণ মানুষ। তাঁরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে শুরু করেন স্থানীয়রা। এরপর জোর করে নৌকা চালু করার চেষ্টা করা হলেও বিএসএফ-এর বাধায় তা ফের বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, আমরা নিজভূমে পরবাসীর মত জীবন কাটাচ্ছি। মৌলিক অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছে বিএসএফ। এর থেকে আমরা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হলে ভালো হত। অন্তত স্বাভাবিক জীবন চালানো সম্ভব হত। তারা আরো জানান, চর বালাভুত এলাকায় সীমান্ত থেকে চার কিলোমিটার ভেতরে (ভারতের দিকে) কালজানি নদীর তীরে বসে বিএসএফ পাহারা দিচ্ছে। বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় পাহারার ব্যাবস্থা করুক। ঘাট সব সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হোক। এতে সবাই উপকৃত হবেন। লকডাউনে ঘরের সমস্ত সঞ্চয় শেষ হয়েছে। আমাদের বাজার পর্যন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্লক ও মহকুমা প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি।

চর বালাভুতের বাসিন্দা সহিদুজ্জামান সেখ, আন্তাজ আলী, আবুল ফজল সরকার, আফতার আলী মিয়া জানান, লকডাউনের পর থেকেই চর বালাভুতে যাতায়াতের একমাত্র ঘাট বন্ধ করে দিয়েছে বিএসএফ। স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। জরুরি পরিষেবাও বন্ধ বর্তমানে। এদিন নদী পার করে বালাভুতে যেতে চাইলে বিএসএফ বাধা দেয়। ওষুধ পর্যন্ত আনতে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তুফানগঞ্জের প্রশাসনও তাঁদের কথা শুনছে না বলে দাবি তাঁদের। বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আইনুল হক বলেন, বিএসএফ সীমান্তে পাহারা না দিয়ে ঘাটপারে পাহারা দিচ্ছে। লকডাউনে ঘাট সিল করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন চর বালাভুতের মানুষ। আমরা মহকুমা ও ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি বারবার। কোনও কাজ হয়নি।

তুফানগঞ্জ-১ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, এদিনের আন্দোলনের বিষয়টি এখনও তাদের কেউ জানায়নি। তবে খোজ নিয়ে দেখা হবে। বিএসএফ-এর এক আধিকারিক জানান, করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের জন্য সিল করা হয়েছে সীমান্তের বেশ কিছু এলাকা। এই এলাকাগুলি সরাসরি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত। সাময়িক সমস্যা হলেও করোনা প্রকোপ কমলেই খুলে দেওয়া হবে সীমান্ত এলাকা।