করোনার সঙ্গে ডেঙ্গির সংক্রমণ, চিন্তায় স্বাস্থ্য দপ্তর

368

শিলিগুড়ি : কোভিড সংক্রামিতরা অনেকসময় ডেঙ্গিতেও সংক্রামিত হচ্ছেন। উত্তরবঙ্গে এমন ঘটনায় চিন্তিত রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। পরপর দুটি ক্ষেত্রে এমনটা দেখা গিয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে কোভিড-ডেঙ্গি কোইনফেকশন বলা হচ্ছে। কোভিডে সংক্রামিত হওয়ার পর ডেঙ্গি হলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অনেকটাই অবনতি হয় এবং জীবনহানির আশঙ্কাও থাকে। কারণ শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কমে যায়। যদিও উত্তরবঙ্গে যে দুজন একইসঙ্গে কোভিড এবং ডেঙ্গিতে সংক্রামিত হয়েছিলেন তাঁরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে গত কয়েক মাসে আটজন রোগীর শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। ডেঙ্গিতে মৃত্যুর কোনও খবর নেই বলে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।

শিলিগুড়ি সহ গোটা দার্জিলিং জেলা এমনকি গোটা উত্তরবঙ্গে ফি বছর ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা যায়। শিলিগুড়িতে প্রতিবছর বেশ কিছু মানুষ ডেঙ্গিতে মারা যান। কিন্তু এবার তুলনামূলকভাবে ডেঙ্গির প্রকোপ অনেকটাই কম। অনেকেই বলছেন, কোভিডের জন্য মানুষ স্বাস্থ্যবিধি অনেকটাই মেনে চলায় এবার ডেঙ্গির প্রকোপ কমেছে। এর মধ্যেই উত্তরবঙ্গে এমন দুটি ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্দরে হইচই পড়েছে। দুটি ঘটনাই জলপাইগুড়ি জেলার। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, কোভিডে সংক্রামিত হয়ে চিকিত্সাধীন দুই রোগীর শরীরে ডেঙ্গির সংক্রমণও পাওয়া গিয়েছে। এঁদের একজন মালবাজারের ডাকবাংলোপাড়ার ৪০ বছরের এক ব্যক্তি এবং অন্যজন নাগরাকাটার হিলা চা বাগানের বাসিন্দা ৪১ বছরের এক ব্যক্তি। স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, এই দুজনই করোনা সংক্রামিত হয়ে জলপাইগুড়ির বিশ্ব বাংলা কোভিড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। তাঁদের শরীর থেকে করোনার সংক্রমণ চলে গেলেও জ্বর সহ অন্যান্য সমস্যা কিছুতেই না কমায় পরবর্তীতে ম্যাক এলাইজা এবং এনএস-১ পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাগুলিতেই ওই দুজনের শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু ধরা পড়ে। কোভিড-১৯এর উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) ডাঃ সুশান্ত রায় বলেন, ডেঙ্গি ধরা পড়ার পরেই ওই দুই রোগীর চিকিত্সায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়। কারণ এমন ঘটনা রাজ্যের কোথাও এর আগে দেখা যায়নি। ফলে প্রথমটা আমরা একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং উপযুক্ত চিকিৎসায় দুই রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণে মানুষের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমছে। পাশাপাশি ডেঙ্গি থাবা বসানোয় চিন্তা আরও বাড়ছে। তবে আমরাও সেইমতোই চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা রাখছি।

- Advertisement -

এদিকে, গত দুমাসে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে চিকিত্সাধীন আটজনের শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে দার্জিলিংয়ের দুজন, কালিম্পংয়ের একজন, জলপাইগুড়ির তিনজন, উত্তর দিনাজপুরের দুজন রয়েছেন। মৃত্যুর কোনও খবর নেই বলে মেডিকেল সুপার ডাঃ কৌশিক সমাজদার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে এবার ডেঙ্গির সংক্রমণ কম। এটা স্বস্তির খবর। আমরা সতর্ক রয়েছি।