ভাওয়াইয়াকে সামনে রেখে পর্যটন মানচিত্রে দেওগাঁও

146

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে জায়গা পেল আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম দেওগাঁও। এবার মুজনাইয়ে নৌকায় চেপে ভেসে বেড়াবেন পর্যটকরা। আর কখনও দোতারার ‘ডোলোডোং ডোলোডোং’ সুরে স্থানীয় শিল্পী গাইবেন, ‘একবার উত্তর বাংলা আসিয়া যান, হামার জাগাটা দেখিয়া যান, মনের কাথা শুনিয়া যান রে, বন্ধু তোমার কাথাও কয়া যান রে…।’

শুধু ভাওয়াইয়া গানই নয়, ভাওয়াইয়া গানের তালে তালে শিল্পীদের নাচ দেখারও সুযোগ মিলব তাঁদের। কখনও আবার তাঁরা শুনবেন ভাটিয়ালি সুরে, ‘নদীর কূল নাই, কিনার নাই রে’। সোমবার উপরি পাওনা হিসেবে নদীর চরে মিলবে ভাঁপা পিঠে। বিকেলে বালুচরে বসে কলাপাতায় গরম গরম ভাতের সঙ্গে মিলবে স্থানীয় পদ্ধতিতে তৈরি নানা রকমের তরকারি। এদিন দেওগাঁওয়ের আজিজারের ঘাটে মুজনাই নদীর তীরে হাজির হবেন পর্যটক, পর্যটন ব্যবসায়ী, গাইড ও পর্যটন লেখকরাও।

- Advertisement -

১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ডুয়ার্স ট্যুরিজম অ্যান্ড কালচারাল কার্নিভাল। অ্যাক্ট, আর্ট অফ লিভিং ও ওয়াইএলটিপি আয়োজিত কার্নিভালে রাজাভাতখাওয়া, গাঙ্গুটিয়া, রায়মাটাং, কালচিনি, জয়ন্তী, সান্তালাবাড়ি, বক্সা ফোর্ট, রাঙামাটি সহ ডুয়ার্সের আনাচে কানাচে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি, সংগীত, খাদ্য, পানীয়। কার্নিভালের সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে ফালাকাটার দেওগাঁওয়ে।

আয়োজকদের তরফে অ্যাক্টের সেন্ট্রাল ডুয়ার্সের সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের অন্যতম ভিত্তি হল টি, টিম্বার ও টুরিজম। টি ও টিম্বার সংকটে পড়েছে। রয়েছে টুরিজম। কিন্তু বন জঙ্গলকে নানা নিয়মে বাঁধছে বন দপ্তর। তাই উত্তরবঙ্গের বন জঙ্গলের বাইরেও পর্যটনের ব্যাপ্তি প্রসারিত হওয়া দরকার। তাই এই কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, এই জায়গাগুলিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ক্যালেন্ডারে জায়গা করে দেওয়া।’

কার্নিভালের আয়োজকরা জানান, গত দু’সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত কার্নিভালে পর্যটকদের তুলে ধরা হয়েছে সাঁওতাল, নেপালি, বোরো সংগীত, নৃত্যানুষ্ঠান। ডুকপা, রাই, লিম্বু জনজাতির শিল্পীরা নিজস্ব পোশাকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরেছেন তাদের সংস্কৃতিকে। নেপালিদের শেল রুটি, রাভাদের ফাপ রুটি, আদিবাসীদের টিকলা খাওয়ার পাশাপাশি নেপালি সাংস্কৃতিক পানীয় তোংবাও চেখে দেখেছেন পর্যটকদের কেউ কেউ।

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে ৫০টিরও বেশি জনজাতি রয়েছে। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক রয়েছে। এসব পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাও এই কার্নিভালের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আর ডুয়ার্সে এখন থেকে যে পর্যটকরা আসবেন, টুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে তাঁদের কাছে দেওগাঁওকেও তুলে ধরা হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন পর্যটক দেওগাঁও ঘুরেও গিয়েছেন।’

দেওগাঁও গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান রহিফুল আলম বলেন, ‘পর্যটন মানচিত্রে দেওগাঁওকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসনীয়। প্রয়োজনে এ ধরনের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।’