বিতর্কিত জমির মাপজোক, বাধার মুখে ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা

54

নকশালবাড়ি: নকশালবাড়ি নন্দ প্রসাদ বালিকা বিদ্যালয়ের বিতর্কিত জমির মাপজোক করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়তে হয় ভূমিদপ্তরের আধিকারিকদের। শেষ অবধি মাপজোক না করেই ঘটনাস্থল থেকে ফিরতে হয় তাঁদের। এবিষয়ে নকশালবাড়ি ব্লকের ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক শুভঙ্কর সাহা জানান, রিপোর্ট আকারে সমস্ত ঘটনা আদালতে জমা করা হবে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাম আমলে নকশালবাড়ি নন্দ প্রসাদ বালিকা বিদ্যালয়ের জন্য সরকারিভাবে কোটিয়া জোত সংসদ এলাকায় ভীমরাম মৌজায় প্রায় পাঁচ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু মূল রাস্তা থেকে বিদ্যালয়টি অনেকটা ভেতরে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না থাকায় নকশালবাড়ি বিডিও অফিসের সামনে নন্দ প্রসাদ বালিকা বিদ্যালয়ের ভবন স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয়রা জানান, বিডিও অফিসের সামনে ১৯৮৫ সালে প্রায় ছয় একর জমির উপর নকশালবাড়ি নন্দ প্রসাদ বালিকা বিদ্যালয়টি তৈরি করা হয়। ফলে ভীমরাম মৌজায় বিদ্যালয় তৈরি করা হয়ে উঠেনি। ফলে বহুদিন ধরেই ফাঁকা অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই জমিটি। এই পরিস্থিতিতে ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ রহিমুদ্দিন ২০১৫ সালে ওই জমিটি নিজের বলে দাবি করে দখল নিতে যান। বাধা দেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে এদিন ফের কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডার নিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। যদিও খালি হাতেই ফিরতে হয় তাঁদের। মহম্মদ রহিমুদ্দিন জানান, ভীমরাম মৌজায় ৬৫ এবং ৬৬ দাগ নম্বর, জেএল নং নম্বর ৩২-এ মোট ১২ কাঠা জমি রয়েছে। বাকিটা স্কুলের জমি। কিন্তু স্থানীয় তৃণমূল ও সিপিএমের নেতারা লোকজনের ভিড় দেখিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের ভয় দেখিয়েছেন। ফের আদালতে আবেদন জানানো হবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে নকশালবাড়ি নন্দ প্রসাদ গার্লস হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা কল্পনা ত্রিপাঠী জানান, স্কুলের জমির সমস্ত কাগজপত্র রয়েছে। কোনও নোটিশ ছাড়াই জমির মাপজোক প্রক্রিয়া শুরু হয় এদিন। তাই জমি মাপতে দেওয়া হয়নি।