মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারীদের নিয়ে আন্দোলনে সামিল স্টাফ সাব স্টাফ জয়েন্ট কমিটি

629

ফাঁসিদেওয়া, ২৮ অগাস্টঃ প্রতি ৩ বছর অন্তর চা বাগানের মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং ১৮ শতাংশ অন্তর্বতী মুজুরি বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবি নিয়ে তরাই-ডুয়ার্স এবং দার্জিলিং মিলে ৩০০ এর বেশি চা বাগানে স্টাফ সাব স্টাফ জয়েন্ট কমিটি (অরাজনৈতিক) ম্যানেজারকে দাবিপত্র জমা করলো। শুক্রবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের একাধিক চা বাগানে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এদিন সকালে সৈয়েদাবাদ, তাইপু, দুপুরে গয়াগঙ্গা, দুপুরে ভোজ নারায়ণ, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ জয়ন্তিকা চা বাগান সহ একাধিক চা বাগানে সংগঠনের তরফে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারীদের নূন্যতম মুজুরি বৃদ্ধির কথা ২০১২ সাল থেকে প্রক্রিয়াতে থাকলেও তা আজ পর্যন্ত লাগু করা হয়নি। আগে প্রতি ৩ বছর পরপর ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হত৷ বিগত ৮ বছর থেকে সেই প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে রয়েছে। এদিকে, লাগাতার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি হয়ে চলেছে। ফলে, বাজার দরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মীদের চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। সময়ের চাকা ঘুরলেও, কর্মচারীদের আগের বেতনই দেওয়া হচ্ছে। এদিনের দাবিপত্রের মাধ্যমে চা বাগানের পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর পরপর মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারীদের নতুন চুক্তি লাগু করার নিয়ম ফিরিয়ে আনার দাবি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে শেষবার ১৮ শতাংশ অন্তর্বতী মুজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল। সরকারি নির্দেশিকা থাকলেও, এরপর প্রায় ৪০ মাস কেটে গিয়েছে তবে, দ্বিতীয় দফায় অন্তবর্তীকালীন মুজুরি বৃদ্ধি করা হয়নি। যদি, সঠিক নিয়ম মেনে চা বাগান কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করে তবে, প্রতিবছরে সাব-স্টাফদের মাসিক বেতন ৪ হাজার এবং স্টাফদের ৮ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি হত। বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসের ২০ তারিখ সংগঠন চা বাগানের মালিকপক্ষ এবং রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীর কাছে একই দাবিপত্র পেশ করেছে। এদিন সংগঠনের তরফে প্রতি ৩ বছর অন্তর মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারীদের নতুন চুক্তি লাগু করার দাবির পাশাপাশি, আরও ৮ দফা দাবি তুলে ধরেছে। সেই দাবি অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার মতো চা বাগানেও চাকরির সময়সীমা ৫৮ বছর থেকে ২ বছর বাড়িয়ে ৬০ বছর করা, অবসরকালীন শৃঙ্খলা মেনে পেনশন বৃদ্ধি, বিভিন্ন বিভাগের কর্মীচারীদের প্রমোশন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার লকডাউন চলাকালীন চা বাগানের কর্মচারীদের কাজ বন্ধ থাকলেও, বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে, একাধিক বাগানে সেই বেতন এখনও দেওয়া হয়নি নলে অভিযোগ। অবিলম্বে সেই বেতন দেওয়ার দাবিও সংগঠনের তরফে তোলা হয়েছে। সংগঠনের সদস্য তথা জয়ন্তিকা চা বাগানের কম্পিউটার অপারেটর দীপঙ্কর সাহা, বাগানের মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারী অভিষেক রায়, বিলাস কুন্ডু প্রমুখ জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চা বাগান কর্তৃপক্ষ দাবিপত্রে উল্লেখিত বিষয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। অন্যথায় তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।