কর্ম সংস্থান হয়নি, অভিযোগ এনে স্মারকলিপি প্রদান করলেন প্রাক্তণ কেএলও সদস্যরা

251

ফাঁসিদেওয়া, ২৯ জুনঃ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সার হয়েছে। দার্জিলিং জেলা তথা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকার প্রাক্তণ কেএলও সদস্য এবং লিংক ম্যানদের রাজ্য সরকারের তরফে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। এই অভিযোগ এনে সোমবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ভীমবারে অবস্থিত ডিএসপি (গ্রামীণ) কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা করা হল। প্রাক্তণ কেএলও সদস্যদের অভিযোগ, খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সংগঠন থেকে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসা সদস্যদের কর্ম সংস্থানের বন্দোবস্ত করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু, এরপর দার্জিলিং জেলার প্রায় ৩০ জন সদস্য জেল খেটে বন্দিদশা কাটিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্তু, কর্ম সংস্থান হয়নি। ফলে, আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আসেনি। এমনকি সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অভিযোগ, বহুবার মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ সেই দাবিতেই এদিন স্মারকলিপি জমা দিয়ে সংগঠনের প্রাক্তণ সদস্যরা রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অতিদ্রুত কর্ম সংস্থান করা না হলে তাঁরা ফের পুরোনো রাস্তায় যাবেন বলে হুশিয়ার দিয়েছেন। ডিএসপি (গ্রামীণ) অচিন্ত্য গুপ্ত জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।

মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে কেএলও সদস্যদের সুবিধা প্রদানের কথা বলেছিলেন৷ ক্ষমতায় আসার পর আর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এদিকে, ২০১৭ সাল নাগাদ জেলের বন্দিদশা কাটিয়ে জেলায় প্রায় ৩০ জন প্রাক্তণ কেএলও সদস্য এবং লিংক ম্যান সমাজের মূলস্রোতে মিশে গিয়েছেন। কিন্তু, এদের অনেকেই আর্থিক সংকটে জর্জরিত রয়েছেন। এদের অনেকেই শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ির বাসিন্দা। কৃষি কাজ করেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু, আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাবে বেঁচে থাকা দায় হয়ে গিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে সমস্যা আরও বেড়ে গিয়েছে। সেই কারণেই, সংগঠনের প্রাক্তণ সদস্যরা কর্ম সংস্থান তথা পুনর্বাসনের দাবি তুলেছেন। ২০১৮ সাল নাগাদ রাজ্য সরকার আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলার প্রায় ৭৬ জন প্রাক্তণ কেএলও সদস্যদের কর্মসংস্থানের শংসাপত্র তুলে দিয়েছেন। তাঁরা এখন হোমগার্ডের চাকরি করছেন। কিন্তু, এই জেলার সদস্যরা কর্মহীন থেকে গিয়েছেন।

- Advertisement -

প্রাক্তণ কেএলও সদস্যদের তরফে জানা গিয়েছে, কর্ম সংস্থানের দাবি নিয়ে চলতি বছর ১৯ মার্চ সকলে মিলে, তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকারের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, দার্জিলিং পুলিশের এসপি-কে চিঠি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশাসনিক দপ্তরে জানানো হয়েছে। কিন্তু, সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। খড়িবাড়ির বাসিন্দা তথা প্রাক্তণ কেএলও সদস্য অভিজিৎ সিংহ, কাচালু সিংহ, কলি মোহন সিংহ, অনিল সিংহ, বিবেকানন্দ সিংহ, দীপক সিংহ প্রমুখ সহ মোট ৯ জন স্মারকলিপি দিতে এসেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার কেএলও সদস্যদের আন্দোলন বন্ধ করতে বলেছিলেন। আরও জানানো হয়েছিল সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সরকার তাঁদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত জেলার প্রাক্তণ কেএলও সদস্যরা কর্মহীন হয়ে দীর্ঘদিন থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, প্রতিশ্রুতিই সার হয়েছে। একদিকে, উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধের মামলা চলছে। আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় তাঁরা কেস চালাতে পারছেন না। পাশাপাশি হাজিরা দিতেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত না হতে পারার জ্বালা তাঁদের তাঁড়িয়ে বেড়াচ্ছে। বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো এখন দায় হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারীভাবে তাঁদের আবেদন অনুযায়ী কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। এভাবে চলতে থাকলে, তাঁরা ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।