বিপন্ন রমজান নদীতে মাফিয়ারাজ বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

57

কিশনগঞ্জ, ১ মার্চঃ কিশনগঞ্জের জীবন রেখা রমজান নদীর অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে। এই অভিযোগ এনে সোমবার কিশনগঞ্জ নাগরিক বিকাশ মঞ্চ সংগঠনের সদস্যদের গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলাশাসক ডাঃ আদিত্য প্রকাশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লির কার্যালয়ে পাঠাল। স্মারকলিপির প্রতিলিপি রাষ্ট্রীয় হরিত অধিকরণ, কেন্দ্রীয় সরকারের জলশক্তি মন্ত্রকের সচিব, কেন্দ্রীয় জল সংশোধন মন্ত্রী, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মন্ত্রকে পাঠান হয়েছে বলে সংগঠনের সভাপতি মাধব ত্রিপাঠী জানিয়েছেন।

ত্রিপাঠী বলেন, স্মারকলিপির মাধ্যমে শহরের বুকের উপর দিয়ে প্রবাহমান রমজান নদীর উন্নয়নের জন্য ৩টি দাবি করা হয়েছে। একসময়ের স্রোতস্বিনী রমজান নদী নানান কারনে আজ নালা বা মরাখাতে পরিনত হয়েছে। সেজন্য রমজান নদীর উদগম স্থল থেকে শুরু করে, এই নদীর বুকে জমে থাকা গাদ ও শহরের আবর্জনা সাফাইয়ের ব্যাবস্থার দাবি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, শহরের নালীনর্দমার জল এই নদীতে ফেলা বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে। ১৯০২ সালের সার্ভে অনুসারে এই নদীর ২ ধারের জমি মাফিয়াদের কবল থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ারও আর্জি জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

পাশাপাশি, জেলাশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে, অতিসত্বর নদীর ২ ধারের জমি অবৈধভাবে দখলদার বস্তির বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথাও জানানো হয়েছে। অবশ্য জেলাশাসকের বকলমে মহকুমাশাসক এস এ নিয়াজী বলেন, জেলা প্রশাসন আগেই রমজান নদীর ২ পাড়ে সরকারী জমি দখলমুক্ত অভিযান শুরু করেছে। অপর একটি সামাজিক সংগঠন রমজান নদী বাঁচাও অভিযান বেশ কয়েকবছর ধরে শুরু করেছে।

স্থানীয় কংগ্রেসের সাংসদ ডাঃ জাবেদ এই সমস্যার সমাধানের জন্যে বেশ কয়েকবার সংসদে আওয়াজ তোলেন। শুধুমাত্র তাই নয় ডাঃ আজাদ কিশনগঞ্জের দলীয় বিধায়ক থাকাকালীন বিহার বিধানসভায় রমজান নদীর অবৈধ জবরদখল নিয়ে সোচ্চার হন বলে জানিয়েছেন। আর সেই সময় জেলা প্রশাসন রমজান নদীর জবরদখল জমি মুক্ত করার জন্যে বিশেষ অভিযান শুরু করে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই অভিযান চালানোর সময় শহরের বেশ কয়েকজন বিশিষ্টজনেরা পাটনা হাইকোর্ট ও জেলা আদালতে নদীর পাড়ের জমি তাঁদের খতিয়ানী অর্থাৎ আইনিভাবে রেজিস্ট্রি করে কেনা বলে দাবি করে। এই মর্মে আদালতে মামলা দায়ের করে। আর কয়েকজন আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পান। সূত্রের খবর, সেজন্য ওই সময়ের রমজান নদীর জমি দখলমুক্ত অভিযান চালানো বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু, এবার মহকুমাশাসক জানিয়েছেন, সবরকমের আইনি নথিপত্র খতিয়ে দেখে ফের অভিযান শুরু করা হয়েছে।