বিডিওকে স্মারকলিপি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের

227

হেলাপাকড়ি: পদমতি-১ অঞ্চল সাথী মহিলা বহুমুখী প্রাথমিক সমবায় সমিতির পদাধিকারীদের পদত্যাগের দাবি তুললেন সমিতিরই সদস্যদের একাংশ। বৃহস্পতিবার দাবির ভিত্তিতে ময়নাগুড়ির বিডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, বুধবার পদমতি-১ অঞ্চল সাথী মহিলা বহুমুখী প্রাথমিক সমবায় সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সভাস্থলেই তাঁদের পদত্যাগের দাবি তোলেন সমিতির সদস্যদের একটি অংশ। এইনিয়ে সভায় অশান্তির সৃষ্টি হয়। যদিও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। শেষে সভাটি মুলতুবি করা হয়। সমিতির সভানেত্রী, সম্পাদিকা ও কোষাধ্যক্ষ এই তিন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন সদস্যদের একাংশ।

- Advertisement -

অভিযোগকারীদের পক্ষে দীপালি রায় বলেন, ‘দেড় বছর আগেও একই অভিযোগে বিডিরও কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই এদিন আবার স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সমিতির সভানেত্রী বিমলা রায়, সম্পাদিকা পিঙ্কি মোহন্ত বর্মন ও কোষাধ্যক্ষ মালতি বসাক তিন জনই সরকারি কর্মচারী। এমনিতেই তাঁরা স্বনির্ভর। তারপরও তাঁরা সমিতির মূল পদে আসীন। সমিতির আরও অনেক শিক্ষিত বেকার মহিলা সদস্য রয়েছেন, কাজেই পদগুলি তাঁদের দেওয়া উচিত। তাছাড়া সমিতি পরিচালনার ক্ষেত্রেও বেনিয়ম চলছে। সব স্বনির্ভর দলকে সমিতির সঠিক হিসাব তাঁরা দেন না। বুধবারের বার্ষিক সাধারণ সভার চিঠিও সব দলকে দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র তাঁদের পছন্দের দলের সদস্যদের নিয়ে সভা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্ত চিঠি না পেলেও অনেকে সভায় উপস্থিত হওয়ায় তাঁদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। বিষয়গুলি নিয়ে আপত্তি তুলতেই অশান্তির সৃষ্টি হয়।’ দীপালি রায় আরও অভিযোগ করেন, ‘বহিরাগত কিছু মহিলাকে এনে পরিকল্পিতভাবে সেখানে অশান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের উপর চড়াও হয়ে মারধরও করা হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে জেলা প্রশিক্ষক নিজেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সভা মুলতুবি করার কথা মাইকে ঘোষণা করেছেন। অথচ সভার কাজ নাকি সম্পন্ন হয়েছে, সংবাদমাধ্যমকে এমন বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে। তাই এদিন বিডিওর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, ওই তিনজনকেই সমিতির পদ ছাড়তে হবে ও দলের অন্য শিক্ষিত মহিলাদের সেই পদ দিতে হবে। নয়তো তাঁদের সরকারি চাকরি ছাড়তে হবে।’

এইনিয়ে ভোটপট্টি রেলস্টেশন সংলগ্ন লিচু তলায় একটি সভাও করেন তাঁরা। সেই সভায় সদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা বিডিওর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। যদিও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির পদাধিকারীরা। সমিতির সম্পাদিকা পিঙ্কি মোহন্ত বর্মন বলেন, ‘সমিতির যে কোনও বিষয়ই সব সদস্যদের জানানো হয়। সাধারণ সভার জন্য সব দলের প্রতিনধিদের চিঠি করা হয়েছিল। চিঠি দেওয়ার সময় প্রত্যেকের সইও করে নেওয়া হয়েছে। তারও প্রমাণ আছে।’ পাশাপাশি তাঁরা জানান, জোর করে তাঁরা কেউ পদ নেননি। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েই তাঁরা পদের দায়িত্ব পেয়েছেন। এটা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ষড়যন্ত্র বলে পালটা অভিযোগ করেছেন তাঁরা। যারা এটা করছেন তাঁদের নিজের দলেরই কোনও অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এই বিষয়ে ময়নাগুড়ির বিডিও শুভ্র নন্দী জানান, পদমতি-১ অঞ্চলের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের তরফে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে। আইনি কোনও বিষয় থাকলে সেই ব্যবস্থা করা হবে।