২৪২৬ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ, প্রায় দেড় লক্ষ কোটি তছরুপের অভিযোগ ডেরেকের

585

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা না মিটিয়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন কেউ। কেউ আবার দেশে থেকেও ঋণের প্রাপ্য টাকা ফেরত দেননি। উল্টে তাঁদের বিপুল পরিমাণ ঋণ মকুব করে দিয়েছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক। এমনই ২৪২৬ ঋণখেলাপির তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সেই তালিকা এদিন টুইট করে প্রকাশ্যে আনেন তিনি। ডেরেক প্রসঙ্গ তুলে জানিয়েছেন, অল ইণ্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (এআইবিইএ) সূত্রে এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ১৭টি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক থেকে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি (১,৪৭,৩৫০ কোটি) টাকা ঋণ নিয়ে তা ফেরত দেননি ২৪২৬ জন গ্রাহক। এর মধ্যে সর্বাধিক ঋণখেলাপিদের পাওয়া গিয়েছে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায়। সেই ব্যাংক থেকে সর্বাধিক ৪৩,৮৮৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা ফেরত দেননি ৬৮৫ জন উপভোক্তা। এরপরেই আছে পিএনবি বা পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (ঋণ ২২, ৩৭০ কোটি ও ঋণখেলাপি ৩২৫ জন), ব্যাংক অফ বরোদা (ঋণ ১৪৬৬১ কোটি, ঋণখেলাপি ৩৫৫ জন), ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (ঋণ ১১২৫০ কোটি, ঋণখেলাপি ১৮৪ জন)। এছাড়া সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (৯৬৬৩ কোটি), ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (৭০২৮ কোটি), ইউকো ব্যাংক (৬৮১৪ কোটি), ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স (৬৫৪৯ কোটি), কানাড়া ব্যাংক (৫২৭৬ কোটি) ও অন্ধ্র ব্যাংক (৫১৬৫ কোটি) রয়েছে তালিকায়। পাঁচ হাজার কোটি টাকার নীচে ঋণখেলাপিদের চক্করে পড়েছে এলাহাবাদ, সিন্ডিকেট, ইন্ডিয়ান ব্যাংক সহ একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক।

- Advertisement -

ডেরেক জানিয়েছেন, যে পরিমান টাকা ঋণখেলাপিরা হাতিয়ে নিয়েছেন, সেই টাকায় পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করা যেত। ডেরেক এও বলেন, ‘সরকারের মতলব পরিষ্কার। গরিব মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ধনীদের দেওয়া।‘ ৩৩ জন ঋণখেলাপির কথা বলেছেন ডেরেক, যাঁরা সর্বাধিক ৩২,৭৩৭ কোটি টাকা হাতিয়েছেন। আর ফেরত দেননি। এর মধ্যে গীতাঞ্জলি জেমস লিমিটেড, এবিজি শিপইয়ার্ড, গিলি ইন্ডিয়া সহ রেই অ্যাগ্রো লিমিটেড, রুচি সোয়া ইন্ডাস্ট্রি, নক্ষত্র ও উইনসাম ডায়মন্ডসের মত সংস্থাগুলি আছে।

https://twitter.com/derekobrienmp/status/1284461326522343427

ডেরেক বলেন, ‘লক ডাউনের মধ্যে একদিকে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে অর্থ ও খাদ্য সঙ্কট, অন্যদিকে, জীবিকা হারাচ্ছেন মানুষ। পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে পারলেও তাঁদের কাছে টাকা নেই। অথচ দেশের প্রভাবশালী শিল্পপতিরা সরকারি ইন্ধনে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক থেকে লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছেন না। কেন্দ্র এই দুর্নীতিবাজ পুঁজিপতিদের রক্ষা করছে এই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে। এই তালিকায় রয়েছে নীরব মোদি, মেহুল চোকসি বা বিজয় মালিয়াদের মত ‘পলাতক’ শিল্পপতিদের সংস্থা বা সহযোগী সংস্থাও।’

উল্লেখ্য, এপ্রিলে আরবিআইয়ের তরফে ৫০টি সংস্থার নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। যাদের নেওয়া কোটি কোটি টাকা ঋণমকুব করেছিল সরকার। মোট ঋণ মকুব করা হয়েছিল ৬৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই তথ্য সামনে আসতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগা শুরু করেছিল বিরোধীরা। সংসদেও ওঠে ঝড়।

তার আগে মার্চ মাসেই প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি, সাংসদ রাহুল গান্ধী সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, দেশের ৫০ জন ঋণখেলাপির নাম প্রকাশ্যে আনুক সরকার। সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান অর্থমন্ত্রী। কিন্তু পরে তথ্য অধিকার আইনে সেই সব সংস্থার নাম প্রকাশ্যে আসে। প্রকাশ্যে আসে কোটি কোটি টাকা ঋণ তছরুপের নজিরও। ইডি, সেবি, সিবিআই সহ একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ঋণখেলাপে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। অনেকে গ্রেপ্তার হন। অনেকের সম্পত্তি সিজ করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ‘ব্যাংক-লুটেরা’দের অধিকাংশই আজও পুলিশের নাগালের বাইরে, বিদেশে বসে আছেন।