গায়ের রং কালো বলে খোঁটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, জানাল হাইকোর্ট

956

কলকাতা : স্ত্রীর গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য খোঁটা দেওয়ার মতো নিষ্ঠুরতা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সম্প্রতি এক রায়ে মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ১৯৯৮ সালে কোচবিহারে এক গৃহবধূকে বিয়ের পর থেকে অত্যাচার ও পরে তাঁকে খুনের অভিযোগে এক মামলায় এই রায় দিয়েছেন বিচারপতিরা। ২৫ জুন ৩১ পাতার নির্দেশে বিচারপতি শহিদুল্লা মুন্সি ও শুভাশিস দাশগুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করে, বিয়ের পরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য বাড়ির বৌকে যে খোঁটা দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ/৩৪ ধারা প্রযোগের উপযুক্ত।

রায় জানিয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটার অরুণকুমার মাইতি বলেন, ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে বিয়ে তিনদিন পর থেকে ওই মহিলাকে গোয়াল ঘরে থাকতে দেওয়া হত। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট পরিষ্কার বলে দিয়েছে, গায়ে রং কালো হওয়ার জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপরে যে মানসিক অত্যাচার করেছে, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮-এ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিবাদী পক্ষের উকিল অরিন্দম জানাও এ ব্যাপারে একমত। তিনি বলেন, একটি মেয়ের জীবনে বিয়ে সম্পর্কে যে স্বপ্ন থাকে, তা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় যদি বিয়ে পরদিন থেকেই তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা গায়ে রং কালো হওয়ার জন্য তাঁকে কুৎসিত বলে টিটকিরি দেয়। কোনও কনের কাছে এর থেকে বড় মানসিক অত্যাচার, হয়রানি বা নিষ্ঠুরতা আর কিছু হতে পারে না।

- Advertisement -

এই মামলায় অভিযুক্ত মজিউল মিয়াঁ ও তাঁর পরিবারকে অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে নগদ ১১ হাজার টাকা, তিনটি রুপোর গয়না ও সাইকেল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তবুও ওই মহিলার সঙ্গে শুধু যে দুর্ব্যবহার ও অত্যাচার করা হয়েছে তাই নয়, পরবর্তীকালে সাইকেলের চেন দিয়ে পেটানো হয়েছে। তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, এই বিয়ে অস্বীকার করে তাঁর স্বামী আবার নতুন করে বিয়ে করবে। বিয়ের তিনদিন পর থেকে তাঁকে জবরদস্তি করে গোয়াল ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়। ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ পাওয়ার দিন চারেক আগে তাঁর বাবা তাঁকে বাপের বাড়িতে এসে থাকতে বলেছিলেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রথম ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, এটি খুনের ঘটনা হতে পারে। নিম্ন আদালত মজিউল এবং তার বাবা-মা-কে খুন ও মানসিক অত্যাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে এবং কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। মজিউলের বাবা ২০১৩ সালে জেলেই মারা যান। তবে তার মাকে মানসিক অত্যাচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করলেও মৃত্যুর জন্য দাযী করেনি আদালত। রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা আশা করছি যেসব মহিলা গায়ে রংয়ের জন্য নীরবে অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছেন তাঁরা এই রায়ে শক্তি পাবেন। অনেক ঘটনাই সামনে আসে না। আমরা একটি ঘটনার কাউন্সেলিং করছি। যেখানে একজন সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারকে তাঁর বেকার স্বামী গায়ের কালো রংয়ে জন্য বারবার টিটকিরি দেন। অনেক সময় সম্বন্ধ করে বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক দাবিদাওয়াও এই ধরনের গায়ের রং তুলে খোঁটা দেওয়ার অজুহাত হিসেবে কাজ করে।