রাজ্যপালের আশ্বাসে ফিরলেও ফের ‘তৃণমূলের সন্ত্রাস’, ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীরা

179

পারডুবি: রাজ্যপাল আসায় বুকে জোর এনে ঘরে ফিরেছিলেন মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের খাটের বাড়ি এলাকার বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু রাজ্যপাল ফিরে যেতেই ফের একবার ঘরছাড়া তাঁরা। অভিযোগ তৃণমূলের অত্যাচারেই সংলগ্ন মানসাই নদী তীরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিতে হয়েছে প্রায় ৩৫ জন বিজেপি কর্মীকে। শুক্রবার দলীয় নেতৃত্বকে ওই এলাকায় পরিদর্শন যান বিজেপির মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুশীল বর্মন, বিজেপির ৭ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত বর্মন, বিজেপি নেতা কানু বর্মন সহ অন্যান্যরা।

ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের মারধর করে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। চানেশ্বর দাস, গৌতম দাস, শ্যামল দাস, সতীশ দাসদের অভিযোগ, আক্রমণে জেরবার হয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বাধ্য হয়েই প্রশাসনিক সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ছাট খাটেরবাড়ি এলাকায় প্রশাসনিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ক্যাম্প বসানোর দাবি জানিয়েছেন প্রত্যেকে।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, ২ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক হিংসায় মাথাভাঙ্গা বিধানসভার পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাট খাটেরবাড়ি ও বেশকিছু এলাকার প্রায় শতাধিক বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হয়ে মাথাভাঙ্গা বিধানসভার পারডুবি এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর গত ১৩ মে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এলাকা পরিদর্শনে এসে ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন রাজ্যপাল। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতি বদলায়নি। এদিন ফের আশ্রয় নেওয়া ওই বিজেপি কর্মীরা প্রশাসনের কাছে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন।

বিধায়ক সুশীল বর্মন বলেন, ‘রাজ্যপাল এসেছিলেন সেই সময়ে তাদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে প্রতিনিয়ত রাতের বেলা মদ্যপ অবস্থায় আক্রমণ করছে তৃণমূলের দুস্কৃতীরা। আমরা মানবাধিকার কমিশনে জানাই ও এফআইআর করি। মাথাভাঙ্গার মহকুমা শাসককে বিষয়টি জানিয়েছি, মাথাভাঙ্গার আইসিকেও জানানো হবে। সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নেব।‘ যদিও মাথাভাঙার তৃণমূল নেতা গিরীন্দ্রনাথ বর্মন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি বিজেপির কোনও কর্মী ঘরছাড়া হয়ে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবেই বলছি আমি তাদের সাদরে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেব।