দুই দপ্তরের চাপানউতোরে থমকে শাল বাগানের সৌন্দর্যায়ন

203

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : দুই দপ্তরের চাপানউতোরের জেরে কাজের অনুমোদনের দুই বছর পরেও কোচবিহারের শাল বাগানের সৌন্দর্যায়ন করা যায়নি। জেলার অন্যতম পিকনিক স্পট তথা পর্যটনকেন্দ্রটির সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০১৮ সালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার অনুমোদন করে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দাবি। তবে সৌন্দর্যায়নের কাজ না হওয়ায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও বন দপ্তর একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু বন দপ্তর কাজের টেন্ডার করেনি। সেই কাজও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। সেজন্য শাল বাগানের সৌন্দর্যায়নের কাজ হয়নি। বন দপ্তরের ডিএফও বিমান বিশ্বাস বলেন, ওই কাজের জন্য টেন্ডার করা হয়েছিল। কিন্তু টাকা পাওয়া যায়নি। তাই কাজ করা সম্ভব হয়নি।

দুই দপ্তরের অভিযোগ-পালটা অভিযোগের জেরে কোনও কাজই না হওয়ায় বর্তমানে বেহাল দশা শাল বাগানের।  প্রায় ১০০ বিঘারও বেশি জমির উপর রয়েছে শাল বাগান। পিকনিকের মরশুমে এখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। যদিও বছরের অন্য সময় প্রায় পর্যটকহীন থাকে শাল বাগান। সমাজবিরোধীদের আড্ডা, মদ-জুয়ার আসরও বসে বলে অভিযোগ। সেখানে থাকা শিশুদের খেলাধুলোর নানা সরঞ্জাম ভেঙে গিয়েছে। শাল বাগানের সৌন্দর্যায়ন হলে সারা বছরই সেখানে পর্যটকদের ভিড় থাকবে বলে কোচবিহারের বাসিন্দারা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালে শাল বাগানের সৌন্দর্যায়নে উদ্যোগী হয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। দপ্তরের তরফে জানানো হয়, এক কোটি টাকারও বেশি টাকা খরচ করে শাল বাগানের উন্নয়ন করা হবে। শাল বাগানের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। বর্তমানে শহর কিংবা শহর লাগোযা বাসিন্দাদের শাল বাগানে যেতে হলে শহর থেকে অনেকটা দূরে বালাপাড়া হয়ে সেখানে প্রবেশ করতে হয়। সহজেই যাতে সেখানে যাওয়া যায় সেজন্য কামেশ্বরী রোড এলাকা দিয়ে প্রবেশপথ তৈরি করা হবে। পিকনিকের সুবিধার জন্য রান্নার ব্যবস্থা, ট্যাপকল, ক্যান্টিন, শৌচাগার তৈরি করা হবে। শাল বাগানের শিশু উদ্যানটি সংস্কার করা হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া, শাল বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে মরাতোর্ষা। এই নদীটির বেশ কিছু অংশে সৌন্দর্যায়ন করে ঘাট তৈরির কথা রয়েছে। সেখানে বোটিং পরিষেবাও দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। কিন্তু আশ্বাসই সার। তারপর সেখানে আর কোনও কাজই হয়নি। সঠিকভাবে পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে উন্নতমানের একটি পর্যটনস্থল এখানে গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

- Advertisement -