তিন বছরেও স্থায়ী অফিস হয়নি চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের

429

চ্যাংরাবান্ধা : তিন বছর পরেও নিজস্ব স্থায়ী অফিস পায়নি চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদ। অস্থায়ীভাবে যেখানে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানেও পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। পর্ষদের নিজস্ব ভবন বা কর্মী-আধিকারিক অর্থাৎ  ইঞ্জিনিয়ার, অধিকারিক, ক্লার্ক  কোনোকিছুই নেই। ব্লক এবং মহকুমার প্রশাসনের অধিকারিকদের দিয়ে কোনোক্রমে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে পরিকল্পনা তৈরি সহ যাবতীয় কাজে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। কর্মী এবং স্থায়ী দপ্তরের অভাবে কাজ করতে সমস্যার কথা অস্বীকার করেননি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র অধিকারী নিজেও। তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, ‘স্থায়ী কর্মী এবং দপ্তরের কথা এর মধ্যে কলকাতায় জানানো হয়েছে। সেখান থেকে বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। উন্নয়ন পর্ষদের বেশ কয়েকটি কাজের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেইসব কাজ দ্রুত শুরু করা যাবে।’ উন্নয়ন পর্ষদের কিছুই না থাকার বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট মেখলিগঞ্জের সাধারণ মানুষও। তাঁদের দাবি, নিজস্ব দপ্তর গড়ার পাশাপাশি কর্মী অধিকারিক নিয়োগ সহ যাবতীয় পরিকাঠামো  গড়ে তুলে উন্নয়ন পর্ষদকে পুরোদমে সক্রিয় করে তোলা হোক।

২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় মেখলিগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের কথা ঘোষণা করেন। সেই সময় এলাকার বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধানকে পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়। অর্ঘ্যবাবুর নেতৃত্বে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট মেখলিগঞ্জের জামালদহে পর্ষদের প্রথম বৈঠক হয়। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে পরেশচন্দ্র অধিকারীকে পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই পরেশবাবু এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন।  কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরেও এক বছর সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও অবধি পর্ষদের স্থায়ী অফিস তৈরির  কাজ শুরু হয়নি। জানা গিয়েছে, একটি উন্নয়ন পর্ষদ কোনোক্রমে চালাতে গেলেও কমপক্ষে পর্ষদের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, একাধিক ইঞ্জিনিয়ার, স্থায়ী ক্লার্ক, ৪-৫ জন পিয়ন থাকা প্রয়োজন। পরেশবাবু দায়িত্ব পাবার পর পর্ষদকে চাঙ্গা করতে এই বিষয়ে তিনি রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু এখনও সমস্যা মেটেনি।

- Advertisement -

পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, চ্যাংরাবান্ধার বিবেকানন্দপাড়া এলাকায় পূর্ত দপ্তরের একটি জায়গায় উন্নয়ন পর্ষদের জন্য নিজস্ব দপ্তর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্ষদের তরফে রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে জায়গায় জন্য আবেদনও করা হয়েছে। বর্তমানে চ্যাংরাবান্ধায় বিডিও অফিস ক্যাম্পাসের পুরনো একটি ভবন সংস্কার করে উন্নয়ন পর্ষদের জন্য দপ্তর তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ছবি : চ্যাংরাবান্ধার বিবেকানন্দ পাড়ায়  পূর্ত দপ্তরের এই জায়গায় পর্ষদের স্থায়ী অফিস বিল্ডিং তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্য ও ছবি :গৌতম সরকার।