চার বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পাইনি, বলছেন সাবেক ছিটের বাসিন্দারা

370

দিনহাটা : ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারত-বাংলাদেশ দু-দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়েছিল। ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টি বাংলাদেশের সাবেক ছিট ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। চার বছর আগে আজকের দিনে সেই ঐতিহাসিক মূহূর্তে দিনহাটার বাত্রিগাছ সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা অনেকের মতো ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আনন্দে গা ভাসিয়েছিলেন। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুন্দর স্বপ্ন দেখেছিলেন। উন্নয়নের সরকারি প্রতিশ্রুতি শুনেছিলেন। কিন্তু চার বছর পর আজকের দিনে তাঁদের অনেকেই বুঝছেন, উন্নয়ন তো দূরের কথা, জীবনের ন্যূনতম চাহিদাও তাঁদের মেটেনি। তবে, সাবেক ছিটের বাসিন্দাদের এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রশাসন। সেখানকার উন্নয়নে অনেক সরকারি প্রকল্পের কাজ হয়েছে বলে ব্লক প্রশাসনের দাবি।

বাত্রিগাছ ফ্রেগমেন্ট ও কিশামত বাত্রিগাছ সাবেক ছিট দুটি দিনহাটা ১ ব্লকের বড় শৌলমাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের যথাক্রমে ২০৪ ও ২০৩ নং বুথের অন্তর্গত। বাত্রিগাছ ফ্রেগমেন্টে বাড়ির সংখ্যা ২৩৯ এবং মোট ভোটার ৭৫০।  কিসামত বাত্রিগাছে বাড়ি রয়েছে ১২৬ টি এবং ভোটার ৫০০ জন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, চার বছরেও  সাবেক ছিটে সরকারি ঘোষণা মোতাবেক উন্নয়ন করা হয়নি। বাসিন্দারা অতিকষ্টে কোনোরকমে দিন গুজরান করছেন। বাত্রিগাছের বাসিন্দারা বলেন, ভারতের নাগরিক হওয়ার সময় আমরা শুনেছিলাম যে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবার প্রতি পাকা বাড়ি, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, কাজকর্ম প্রভৃতি দেওয়া হবে। কিন্তু চার বছর অতিক্রান্ত হল, কিছুই তো পেলাম না। ১০০ দিনের কাজের সুযোগ আমাদের দেওয়া হয় নি। এমনকি কৃষিকাজের উন্নতিতে সরকারি সুযোগ সুবিধা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।

- Advertisement -

কিছু বাসিন্দা বলেন, আমরা স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তুললেও আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় স্বনির্ভর হতে পারিনি। পাকা শৌচালয়ের অভাবে আজ পর্যন্ত খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। এখানে কোনোরকম কর্মসংস্থান করা হয়নি। অথচ কৃষিভিত্তিক কুটিরশিল্প  অন্যান্য ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন করলে আমরা কাজ পেতাম। সরকারের উদাসীনতায় বাধ্য হয়ে এখানকার শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন।

ব্লক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে পাকা রাস্তা, কমিউনিটি হল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেশনকার্ড, জমির কাগজ, কৃষিকাজে জল সেচের জন্য সৌরচালিত পাম্পসেট সহ সরকারি নানা প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। দিনহাটা ১ ব্লকের বিডিও সৌভিক চন্দ বলেন, ‘সাবেক ছিটের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত সরকারি প্রকল্পের বেশকিছু কাজ ওই সাবেক ছিটে বিগত দিনে করা হয়েছে। পরবর্তী সময়েও সেখানে সরকারি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা যথারীতি পৌঁছে দেওয়া হবে। বাসিন্দাদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’

 

ছবি-বাত্রিগাছ সাবেক ছিট।

তথ্য ও ছবি- পার্থসারথি রায়