সাহায্যেই টাকা শেষ, থমকে গিয়েছে উন্নয়ন

72

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : একদিকে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে অমুক-তমুক প্রকল্প। আর অন্যদিকে, এলাকায় উন্নয়নের কাজ গিয়েছে থমকে। রাজ্য সরকার দুয়ারে সরকার, পাড়ায় সমাধান প্রকল্প করছে। তার সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নগদ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তা অথবা পুজো করার জন্য ক্লাবে-ক্লাবে অনুদান, সব ব্যবস্থাই চালু। আবার এরই মাঝে রাজ্য সরকারের সরাসরি দেওয়া নিজস্ব বরাদ্দ একপ্রকার বন্ধই রয়েছে জেলায়-জেলায়। রাজ্য বাজেট থেকে অনুমোদন করা জেলা পরিষদ এবং বিভিন্ন দপ্তরের ফান্ড দেওয়া বন্ধ। নতুন করে কাজ হওয়া একপ্রকার বন্ধ। যেগুলো হচ্ছে সেগুলো হয় চলতি কাজ, নাহয় কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রকল্প।  চলতি ২০২১-২২ আর্থিক বছরে জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর কিন্তু আর নতুন কোনও বরাদ্দ পায়নি। কোনও নতুন কাজের অনুমোদনও  মেলেনি।

রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন, কিছু কিছু বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।   কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি উমাকান্ত বর্মন বলেন, রাজ্য সরকারের চতুর্থ অর্থ কমিশনের টাকা এবার পাইনি। পুরোনো কাজগুলো চলছে। নতুন কোনও কাজ, স্থায়ী সমিতিগুলোর বিভিন্ন কাজ, সংস্কারমূলক কাজ করা যাচ্ছে না। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদেরও একই দশা। সেখানকার সভাধিপতি শীলা দাসসরকার বলেন, ২০২১-২২ আর্থিক বর্ষে চতুর্থ অর্থ কমিশনের টাকা পাইনি। সমস্যা হচ্ছে। নিজস্ব ফান্ডের অবস্থাও ভালো নয়। অনেক কাজ করা যাচ্ছে না। তবে কিছুদিন পরে টাকা দেবে শুনেছি।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলায় ৫৯টি সেতুর অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় ১০০টি কালভার্টের বেহাল দশা। গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজন। টাকার অভাবে বিভিন্ন স্থায়ী সমিতির বিভিন্ন সুবিধা প্রদানও বন্ধ রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মনও জানিয়েছেন, টাকা পেলে রাস্তা, কালভার্ট বানানো হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু জেলা পরিষদই নয়, পূর্ত দপ্তর, পূর্ত দপ্তর (সড়ক), জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর, সেচ দপ্তর বা শিক্ষা দপ্তর, কেউই কিন্তু এবছর নতুন কোনও কাজ শুরু করেনি। পুরোনো হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ তারা করছে। এদিকে, রাজ্য সরকার তাদের নিজস্ব বাজেটের বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ রেখেছে। জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলো কেন্দ্রের পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় বিভিন্ন কাজ করছে। একশো দিনের কাজ হচ্ছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রকল্প যেমন- গ্রাম সড়ক যোজনা, আবাস যোজনার ঘর ইত্যাদি হচ্ছে। কোচবিহারে পূর্ত দপ্তরের এই মুহূর্তে কাজ করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তারা চলতি আর্থিক বর্ষে রাজ্য থেকে এখনও টাকা পায়নি। টাকার অভাবে কোচবিহারের হরিণচওড়া থেকে বাবুরহাট পর্যন্ত রাস্তাটির সংস্কার সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।  ১৮ কোটি টাকা প্রয়োজন মাথাভাঙ্গা থেকে শীতলকুচি পর্যন্ত রাস্তাটি নতুন করে তৈরি করতে।  সেই বরাদ্দও আসেনি। পূর্ত দপ্তর (সড়ক) চলতি আর্থিক বর্ষে নতুন কোনও কাজ শুরু করেনি। কোনও বরাদ্দও পায়নি রাজ্য থেকে। সেচ দপ্তরও নতুন কোনও কাজ করেনি। একই অবস্থা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরেরও। জলস্বপ্ন প্রকল্পের বাইরে অন্য কোনও কাজ নতুনভাবে শুরু করেনি।