২৬ কোটির উন্নয়ন প্রকল্প কোচবিহারে

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : কোচবিহার জেলার বিভিন্ন গ্রামে ৩২টি রাস্তা তৈরি করা হবে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ হবে। এছাড়া জেলায় ৩৩টি ওভারহেড রিজার্ভার সহ আয়রনমুক্ত পানীয় জলপ্রকল্প তৈরি হবে। শুক্রবার কোচবিহার জেলা পরিষদে অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় বিভিন্ন কাজের পরিকল্পনা হয়। সেখানেই এসব সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এসএসকে ও এমএসকে-তে পানীয় জলপ্রকল্প, ৩৩টি বালিকা বিদ্যালয়ে শৌচাগার সহ বৈঠকে সবমিলিয়ে ২৬ কোটি টাকা খরচের খসড়া অনুমোদন হয়। মৎস্য সংক্রান্ত একটি প্রকল্প নিয়ে পরিষদের দুই কর্মাধ্যক্ষের মধ্যে বৈঠকে কথা কাটাকাটি হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা পরিষদে সাধারণ বৈঠক হবে। সেখানে এসব কাজকর্মের চড়ান্ত অনুমোদন হবে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা অনলাইনে আপলোড করা হবে।

সভাধিপতি উমাকান্ত বর্মন বলেন, এদিন জেলা পরিষদে অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে অর্থের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর সাধারণ সভা রয়েছে। এদিনের সিদ্ধান্তগুলি সাধারণ সভায় পাশ করলে কার্যকর হবে। জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শুচিস্মিতা দেবশর্মা বলেন, মানুষের উপকারে আমরা টায়েড ফান্ডের প্রায় ১৩ কোটি টাকা দিয়ে বিভিন্ন কাজ করব। পাশাপাশি, আগামী পাঁচ বছরের অ্যাকশন প্ল্যানও তৈরি করব। এদিন কোচবিহার জেলা পরিষদে অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টায়েড ও আনটায়েড ফান্ডের টাকা খরচের বিষয়ে খসড়া অনুমোদন হয়। টায়েড ফান্ডের প্রায় ১৩ কোটি টাকাই জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য বিভাগ খরচ করবে। এর মধ্যে জেলার ১২টি ব্লকে কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্পে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা খরচ হবে। ৩৩টি বালিকা বিদ্যালয়ে শৌচাগার তৈরি করা হবে। প্রতিটির জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। জেলার বড় হাটবাজারগুলিতে ওভারহেড রিজার্ভার সহ ৩৩টি আয়রনমুক্ত পানীয় জলপ্রকল্প তৈরি করা হবে। এ জন্য ৪ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এসএসকে ও এমএসকেগুলিতে ৩৩ লক্ষ টাকায় ১১০টি পানীয় জলের কল বসানো হবে।

- Advertisement -

জেলায় রিজার্ভার সহ ৬৬টি ক্ষুদ্র পানীয় জলপ্রকল্প করা হবে। প্রতিটির জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ব্লকে একটি করে আরএলআই করা হবে। এরজন্য টায়েড ফান্ডে ৫৬ লক্ষ টাকা ও আনটায়েড ফান্ডে ৬০ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। আনটায়েড ফান্ডে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ৩২টি গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করা হবে। প্রতিটি রাস্তা তৈরি করতে ৩০ লক্ষ টাকা করে ৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। গোসানিমারিতে পর্যটনকেন্দ্র বিকাশে একটি জয়েস ব্রিজ তৈরি করা হবে। এজন্য ৮০ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। জেলা পরিষদের শিশু ও নারী দপ্তর থেকে ৩৫০টি আইসিডিএস কেন্দ্রে ৪২ লক্ষ টাকা খরচ করে আলমারি দেওয়া হবে। প্রতিটি ব্লকের প্রান্তিক বাজারে একটি করে মৎস্য বিপণনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এজন্য ৪২ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্প ও বিদ্যুৎ স্থায়ী সমিতির তরফে ৩৬ লক্ষ টাকায় সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে পথবাতি দেওয়া হবে। ৬ লক্ষ টাকার তার দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্রে খবর, পরিষদের টেন্ডার কমিটিতে আগে আবদুল জলিল আহমেদ ও শিখা দাস ছিলেন। কিন্তু এদিন কিছু নতুন সিদ্ধান্ত হয়। আবদুল জলিল আহমেদ বলেন, এখন থেকে যখন যাঁর দপ্তরের টেন্ডার হবে সেই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হবে। এদিনের বৈঠকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, এগজিকিউটিভ অফিসার তথা কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ান, অতিরিক্ত এগজিকিউটিভ অফিসার তথা অতিরিক্ত জেলা শাসক রামকৃষ্ণ মালি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।