বিজিবির আপত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উন্নয়নের কাজ থমকে

265

চ্যাংরাবান্ধা: কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের বেশকিছু এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার নেই।আবার নানা কারণে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ করাও সম্পন্ন হয়নি। এ কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই এলাকায় কোনও কাজ করতে গেলেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে বেশ কিছু জায়গায় আগে সীমানা পিলার ছিল। বর্তমানে সেটাও উধাও হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সীমানা ঠিকমতো বুঝতে না পারার কারণেই সীমান্তের কাছে নিজস্ব জমিতে কাজ করতে যেতেও অনেকসময় ভয় পাচ্ছেন ভারতীয়দের একাংশ।

শুধু তাই নয়, সীমানা ঠিকমতো চিহ্নিত না থাকায় এবং সর্বত্র কাঁটাতারের বেড়া না থাকার কারণেই প্রায়ই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তরফে ভারতীয়দের কাজ নিয়ে অভিযোগ করে। বিজিবির আপত্তিতে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত এলাকাতেই একাধিক উন্নয়নমূলক কাজও থমকে গিয়েছে। বাংলাদেশের তরফে সবুজ সংকেত না মেলায় কয়েকটি কাজতো প্রায় ৮-১০ বছর ধরে আটকে রয়েছে। কিছু প্রকল্পের টাকা ফেরতও চলে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এরমধ্যে চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় লোহার গেট নির্মাণসহ সৌন্দর্যায়নের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্তের গেট বন্ধ করা হচ্ছে বাঁশের বেড়া দিয়ে। ধরলা নদীতে ছটপুজোর ঘাট, একশ দিনের প্রকল্পে মাটির রাস্তা তৈরির কাজ ইত্যাদি। সম্প্রতি স্থানীয়দের উদ্যোগে বাজারের পিছন দিকে থাকা একমাত্র শশ্মানঘাটের পরিকাঠামো গড়ার কাজ শুরু করা হচ্ছিল। বিজিবির আপত্তিতে সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে সীমান্তবর্তী এই এলাকার মানুষের মনে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার ঘটছে। তাদের বক্তব্য, বিজিবির তরফে বারংবার আপত্তি তোলায় নদী ভাঙনসহ তাদের বিভিন্ন ক্ষতি হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি দুই দেশের মত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তাই এবিষয়ে তাদেরও তেমন কিছু করার থাকছে না বলে জানান।

- Advertisement -

থমকে থাকা কাজগুলি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে সীমান্তে একাধিকবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হলেও ওপার থেকে সবুজ সংকেত না আসায় থমকে থাকা কাজগুলি শুরুই করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চ্যাংরাবান্ধা বাজার এলাকার গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য সুনির্মল গুহ। তিনি বলেন, “বিজিবির আপত্তিতে সীমান্তে একাধিক উন্নয়নের কাজ থমকে গিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।” বিএসএফের উত্তরবঙ্গের আইজি সুনীল কুমার ত্যাগী অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়গুলি সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। নজরে রয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও। এইসব নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গেও আলোচনা করা হয়ে থাকে।