ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে ঘর সাজানোর উপকরণ বানিয়ে তাক লাগাচ্ছেন দেওয়ান

992

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: ব্যবহার করার পর ফেলে দেওয়া জিনস্ , জানালা, দরজার পর্দা, টেবিল ক্লথের মতো ফেলে দেওয়া কাপড় দিয়ে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র তৈরি করে নজর কাড়ছেন আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার বন্ধ বান্দাপানি চা বাগানের ওয়াইবা লাইনের বাসিন্দা দেওয়ান তামাং। সিমেন্টে জল মিশিয়ে ওই কাপড়চোপড়ে মিশিয়ে তা দিয়ে ফুলদানি থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা উপকরণ তৈরি করেছেন তিনি। আবার ফেলে দেওয়া টাইলস, মার্বেলের টুকরো ও সিমেন্ট মিশিয়ে ফুল গাছ লাগানোর টবও তৈরি করেছেন তিনি। এমনকি কারও ফেলে দেওয়া মোটরবাইকের টায়ারে সিমেন্ট মিশিয়ে নিজের ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছেন টি টেবিল। দেওয়ানের বাড়ি থেকে এখন অনেকেই ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যান। ফলে, উৎসাহ বাড়ছে দেওয়ানের। অনলাইনে তাঁর জিনিসপত্র বিক্রি করা যায় কি না, তা নিয়ে খবর নিতে শুরু করেছেন তিনি।

বান্দাপানি চা বাগান বন্ধ বছরের পর বছর ধরে। দেওয়ানের মা নীনা তামাং কাজ হারিয়েছেন বহু বছর আগেই। মারা গিয়েছেন তাঁর বাবা প্রেমবাহাদুর তামাংও। তাই অন্ন জোটাতে বেলচা ঠেলে নদী থেকে বালি বজরি তুলতে হয় দেওয়ান তামাংকে। কিন্তু হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বালি তুলে ঘরে ফেরার পর রীতিমতো শিল্পী হয়ে হয়ে ওঠেন দেওয়ান। ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র তাঁর আঙুলের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে ঘর সাজানোর উপকরণ।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, তাঁদের ছোট্ট ঘরের চারপাশে নিজের তৈরি ঝুলন্ত টবে নানারকম ফুল চাষ করেছেন দেওয়ান। ঘরও সাজিয়েছেন নিজের তৈরি জিনিসপত্র দিয়ে। শ’দুয়েক টাকার মধ্যেই মিলছে দেওয়ানের তৈরি কাপড় ও সিমেন্টের ফুলদানি। দেওয়ান বলেন, ‘দু’পয়সা বাড়তি রোজগারও হচ্ছে। প্রশংসা পেলে আনন্দও হচ্ছে।’ এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক তিলক থাপা বলেন, ‘দেওয়ানের হাতের কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেকেই কিনেছেন তাঁর তৈরি ফুলদানি।’ দেওয়ানের মা নীনাদেবী বলেন, ‘আসলে ও অলসভাবে বসে থাকতে চায় না। কোনও না কোনও কাজ করতেই থাকে। কেউ কেউ তাঁর তৈরি ফুলদানি  কিনতে আসছেন। কেউ আবার দেখতেও আসছেন।’