বায়না নেই, শ্রমিকের কাজ করছেন ঢাকিরা

332

কৌশিক দাস  ক্রান্তি : পুজোর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এখনও বায়না পাননি ক্রান্তির ঢাকিরা। করোনা পরিস্থিতির কারণে পুজোর বাজেট কাটছাঁট করেছে অনেক পুজো কমিটি। এখনও উদ্যোক্তাদের দেখা না পাওয়ায় আশঙ্কায় রয়েছেন মাল ব্লকের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ জন ঢাকি। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঢাক ছেড়ে শ্রমিকের কাজ করছেন।

মাল ব্লকের ক্রান্তি, গঙ্গাদেবী, খালপাড়ায় বেশ কিছু ঢাকি পরিবার রয়েছে। শুধু ব্লকেই নয়, জেলা, এমনকি রাজ্যের বাইরেও ঢাক বাজানোর বায়না পেতেন তাঁরা। দুর্গাপুজোর সময় ঢাক বাজাতে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতেন। পুজোর পর তাঁরা ঘরে ফিরলে পরিবারের সদস্যরা আনন্দে মেতে উঠতেন। পুজোর তিন মাস আগে থেকেই বড় বড় পুজো কমিটিগুলি বায়না করত। কিন্তু এবার সবই পালটে গিয়েছে। এখনও কোনও পুজো কমিটির তরফে বায়না পাননি ঢাকিরা। ক্রান্তির ধনতলায় বাড়ি সজেন্দ্রনাথ হাজরার। বংশপরম্পরায় ঢাক বাজান তাঁরা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর হাতে ঢাকের বোল ফুটে উঠেছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে ঢাক বাজিয়ে আসছেন তিনি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, কখনও এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি আমাদের। সারা বছর কাজ লেগেই থাকত। বাড়ির চেয়ে বাড়ির বাইরেই বেশি থাকতে হত। পুজোর তিন মাস আগেই বিভিন্ন পুজো কমিটি আমাদের ঢাক বাজানোর জন্য বায়না দিয়ে যেত। করোনা পরিস্থিতির জন্য এখনও অবধি কোনও বায়না পাইনি। মায়েj সামনে ঢাক বাজাতে না পারলে, তার চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হবে না।

- Advertisement -

আরেক ঢাকি সুবীরকুমার হাজরা বলেন, ধনতলা, উত্তর খালপাড়া, বৈদ্যডাঙ্গা মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন ঢাকি রয়েছেন। লকডাউনের পর থেকে প্রত্যেকেই বাড়িতে বসে। গ্রামে প্রতি বছর অনেক রকম পুজো হত। কিন্তু এ বছর প্রায় সবই বন্ধ। অনেকে শ্রমিকের কাজ করে দিন চালাচ্ছেন। কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাঁশের সামগ্রী বিক্রি করছেন। এই কয়েকমাস কীভাবে আমাদের দিন চলছে, কেউ খবর নেয়নি। ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বসুন্ধরা দাস বলেন, ঢাকিভাইদের জন্য কিছু করা যায় কি না, সেটা দেখা হচ্ছে।