আলিপুরদুয়ারে প্রচারে ডাক পেয়ে পেটের ভাত জুটছে ঢাকিদের

96

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : গতবছর করোনা পরস্থিতিতে থমকে গিয়েছিল ঢাকিদের রুজিরুটি। দুর্গাপুজোয় কিছুটা কাজ পেলেও অন্য বছরের মতো কাটেনি গোটা বছরটা। ফলে মন খারাপ হলেও নির্দিষ্ট তালিম নিতে ভোলেননি তাঁরা। বর্তমানে রাজ্যের বিধানসভা ভোট দোরগোড়ায়। প্রচারে জৌলুস বাড়াতে ঢাকিদের শামিল করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

ফলে ফের কাজ পেয়ে হাসি ফুটেছে আলিপুরদুয়ার শহরের দ্বীপচর এলাকায় ঢাকিদের মুখে। ভোট প্রচারে ডাক পাওয়ায় পেটে ভাত জুটছে ব্যান্ডপার্টি শিল্পীদেরও। ঢাকিরা জানাচ্ছেন, এখনও অবধি আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে বেশি বায়না পেয়েছেন ঢাকিরা। তবে অন্য দলগুলিও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। মিছিল হোক বা মনোনয়ন, সবতেই ব্যস্ত ওঁরা।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার শহরের আশুতোষ কলোনিতে শতাধিক ঢাকিশিল্পী কয়েকপুরুষ ধরে পেশা আঁকড়ে। প্রতিবছর বিশ্বকর্মাপুজোর আগে বায়না হয় তাঁদের। সেখান থেকে দুর্গাপুজোর বায়না পান। এই দুই পুজোর টাকা এবং ছোট ছোট পুজোয় ঢাক বাজিয়ে সারাবছরের সংসার খরচ তোলেন শিল্পীরা।

কিন্তু, গত বছর করোনার জন্য সামান্য কয়েকজন ঢাক বাজানোর বায়না পেলেও সকলের কপালে জোটেনি। ভিনরাজ্যেও ঢাক বাজাতে যেতে পারেননি অনেকে। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন কেটেছে তাঁদের। বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলি জোর প্রচার চালাচ্ছে। এজন্য ঢাকি ও ব্যান্ডপার্টি শিল্পীদের বায়না করছে। ফলে, ফের কাজ পাওয়ায় খুশি আলিপুরদুয়ারের ঢাকিরা।

আশুতোষ কলোনির প্রবীণ ঢাকিশিল্পী গোপাল রায় বলেন, গতবছর লকডাউনের পর থেকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তা আগে দেখিনি। প্রায় এক বছর বায়না হয়নি। ভোট ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক দলের থেকে বায়না হচ্ছে। আমরা ঢাক বাজিয়ে রোজগার করতে পারছি। ব্যান্ডপার্টি শিল্পী সুদেব দাস বলেন, স্থানীয় তৃণমূলের নেতারা আমাদের বায়না করছেন তাঁদের প্রচারের জন্য। এতে ভালো আয়ও করছি। এমন ভোট ছয় মাস পরপর হলে আমাদের আর চিন্তা থাকবে না।

তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনি প্রচারে ঢাক সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে। তাই ঢাকিদের বায়না করছি। এতে রোজ পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা ঢাকিদের দল পাচ্ছে। প্রচারে গ্ল্যামারও বাড়ছে। ঢাকিরাও উপার্জন করছেন। আলিপুরদুয়ার বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সৌরভ চক্রবর্তী এবং ফালাকাটার প্রার্থী সুভাষ রায় প্রচারে বেশি ঢাক ব্যবহার করছেন।

শনিবার সৌরভের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে ঢাকের পাশাপাশি ব্যান্ডপার্টি ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবে লকডাউনের সময় কাটিয়ে ভোটের জন্য ফের ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আলিপুরদুয়ারের ঢাকিরা। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মতো এখন তাঁরাও নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রচারে ব্যস্ত।