জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে ঘরছাড়া তিন আদিবাসী পরিবারের ধর্ণা থানায়

283

রামপুরহাট, ৩ ডিসেম্বরঃ জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে ঘর ছাড়া হয়েছে তিনটি আদিবাসী পরিবার। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে রামপুরহাট থানায় ধর্নায় বসলেন ওই পরিবারের সদস্যরা। পুলিশি আশ্বাসে ধর্ণা তুলে নেন আদিবাসীরা।

অসহায় ওই পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বীরভূমের রামপুরহাট থানার ঠাকুরপুরা গ্রামের কর্ণেল মার্ডি তাঁর দাদু লপসা মাঝির কিছু জমি মেরি মূর্মূ নামে এক মহিলাকে বিক্রি করেন। এদিকে, গ্রামের টিবু মার্ডির দাবি ওই জমি তাঁর। অন্যায়ভাবে বিক্রি করেছেন কর্ণেল। কয়েকজন দালালের মাধ্যমে ওই জমি বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। টিবু মার্ডি পার্শ্ববর্তী আতুরিয়া গ্রামে ডেকে পাঠায় কর্ণেল, দিলীপ সোরেন এবং বড়জোল গ্রামের দুখু রাউতকে।

- Advertisement -

এরপর তাঁদের মারধর করে পঞ্চায়েত প্রধান দিলীপ কিস্কুর উপস্থিতিতে সালিশি সভায় ৯ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই মতো করে মুচলেখা লেখেন টিবু। তাতে প্রধানের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে। ওইদিন ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে ছাড়া পায় ধৃতরা। একমাসের মধ্যে বাকি টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু, সেই টাকা দিতে না পারায় গ্রাম ছাড়া হয়েছেন তিন পরিবারের সদস্যরা।

বিষয়টি জানিয়ে রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু, পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। আর সেই কারণেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সকালে ওই পরিবারগুলি রামপুরহাট থানার সামনে ধর্ণায় বসেন। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি।

কর্ণেল বলেন, আমার দাদুর জমি আমি বিক্রি করেছি। কিন্তু, টিবু দাবি করছে ওই জমি তাঁর। এরপর অন্যায়ভাবে আমাদের মারধর করেছে। মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিছু লোক ছুটে এসে বাঁচিয়েছে। এখন বাকি টাকার জন্য বাড়িতে অত্যাচার চালাচ্ছে। তাই ভয়ে গ্রামে ঢুকতে পারছি না। সেই কারণে আমরা ধর্ণায় বসেছিলাম। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, এনিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। তাই আমরা ধর্ণা তুলে নিয়েছি।

দুখু রাউত বলেন, জমি বিক্রি নিয়ে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। আমরা নাকি জমি বিক্রিতে দালালি করেছি। এই সন্দেহের বশে আমাদের মারধর করেছে টিবু। তবে, সালিশি সভায় প্রধান উপস্থিত ছিলেন। প্রধান দিলীপ কিস্কু বলেন, আমি সালিশি সভায় ছিলাম না। কিন্তু, পরে বিষয়টি শুনেছি। টিবুর দাবি অন্যায়ভাবে তাঁদের জমি বিক্রি করে দিয়েছে। তাই আমরা ওই টাকা ফেরত চেয়েছি।

বিজেপির বীরভূম জেলা যুব মোর্চার সভাপতি শান্তনু মণ্ডল বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পুলিশ আমাদের আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত ঘর ছাড়াদের ঘরে ফিরিয়ে দেবেন।