অধিকার ফিরে পেতে শ্বশুরবাড়ির সামনে ধর্না স্ত্রীর

295

রাকেশ শা, ঘোকসাডাঙ্গা: প্রায় এক বছর আগে রেজিস্ট্রি বিয়ে তারপর সামাজিক বিয়ে, তিন মাস ঘরসংসার করার পর স্বামীর বাড়িতে অত্যাচারিত হয়ে বাপের বাড়ী চলে আসে গৃহবধূ। পরে বাড়ির লোকজন এবং গ্রামবাসীদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসলে সেই গৃহবধূকে গ্রহণ না করে বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে স্ত্রীর বাপের বাড়ির নামে থানায় ডায়েরি করে স্বামীর পরিবারের লোকজন। এমনই অভিযোগ গৃহবধূর বাড়ির লোক ও স্থানীয়দের। অবশেষে স্বামীর অধিকার পেতে শ্বশুরবাড়িতে ধর্না দেন স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের লতাপাতা গ্রাম পঞ্চায়েতের লতাপাতা গ্রামে।

জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের ধুলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হকের মেয়ে মুন্নি পারভীন আসল নাম নয়ের সঙ্গে লতাপাতা গ্রামের জয়নাল উদ্দিন মিয়ারের ছেলে খুরশিদ আলমের প্রেম প্রীতি ভালোবাসা এবং অবশেষে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে হয় প্রায় এক বছর আগে। তারপর বাড়িতে জানাজানি হলে মেয়ের বাড়ির লোক তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে যায়। খুরসীদের পরিবার এ বিয়ে মানতে নারাজ। এরপর গ্রামের লোক জন সামাজিক বিয়ের জন্য খুরশিদের বাড়িতে চাপ দেয় এবং মুসলিম রীতি মেনে সামাজিক বিয়েও হয়। কিন্তু বিয়ের তিন মাস পর মুন্নিকে তার বাড়ির লোকজন কিছুদিনের জন্য মেয়েকে নিয়ে যায়।

- Advertisement -

বাড়িতে যাওয়ার পর তারা জানতে পারে খুরশিদের পরিবার তার মেয়েকে এমন মার ধর করেছে তার শরীরে মারের চিহ্ন লেগে আছে। এমতা বস্তায় মুন্নির পরিবার খুরশীদের বাড়িতে মেয়েকে এমন মার দেওয়া হলো কেন এ প্রশ্ন নিয়ে হাজির হলে খুরশীদের পরিবার নিজেরাই নিজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে মুন্নির পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় লিখত অভিযোগ দায়ের করেন বলে অভিযোগ মুন্নির বাবা আব্দুল হক সহ স্থানীয়দের।

অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা এবং মুন্নির পরিবারের লোক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এমনকি বাড়ি ভাঙচুর করে বলে জানান খুরসীদের মা। এতদিন এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে এই নিয়ে জোর বিবাদ চলছিল । কিন্তু রবিবার যাতে দুই পরিবার মিলিত হয় তার জন্য একটি গ্রাম্য সালিশি সভা বসে। কিন্তু অভিযোগ সেই সভাকে আমল দেয়নি খুরশীদের পরিবার। অবশেষে বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসে মুন্নি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাথাভাঙ্গার এডভোকেট তথা পিপি রবীন্দ্রনাথ বসুনিয়া। বসুনিয়া বাবু ছেলের বাড়ির পক্ষ পাতিত্ব করছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় হাফিজুর মিয়া, বাবলু হক সহ অনেকে।

যদিও রবীন্দ্রনাথ বসুনিয়া জানান, এই অভিযোগ সত্য নয়। তবে যে ম্যারেজ রেজিস্ট্রি কাগজ দেখলাম তা সঠিক নয় আমি তাই বলেছি এবং সেহেতু শরীয়ত মতে বিয়ে হয়েছে তাই যাতে দুই পরিবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে নেয় সেই কথাই বলেছি। এ দিকে মুন্নি পারভীনের সাফ কথা যেহেতু আমি খুরশিদকে বিয়ে করেছি সেই আমার স্বামী আমি আমার স্বামীর বাড়িতে থাকব। তাতে আমার যা হয় হবে। অন্যদিকে খুরশিদের পরিবারের দাবি যেহেতু তারা আমার বাড়ী ঘর ভাঙচুর করেছে।

বিষয়টি নিয়ে আমরা মামলা করেছি। আদালত যদি বলে আমরা এই মেয়েকে মেনে নিব । যতক্ষন পর্যন্ত আদালতের আদেশ না আসে আমরা এই মেয়েকে গ্রহণ করব না। যদিও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় মুন্নিিকে এক প্রকার জোর করে তার স্বামীর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসে। আপাত তার স্বামীর ঘরে ঢুকলেও পরবর্তীতে মুন্নিকে তার স্বামীর পরিবার মেনে নেবেন কিনা সেটাই এখন দেখার।