সুশান্তের মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েছেন ধোনি

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : মন ভালো নেই একেবারেই। একে তো করোনা ভাইরাসের দাপটে থমকে রয়েছে দুনিয়া, অনুশীলন শুরুর পরও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। সঙ্গে নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত চলা জল্পনার কারণে রয়েছে চরম বিরক্তি।

এমন মনোভাব নিয়ে রাঁচির অদূরে রিং রোডের খামারবাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেখানে বসেই রবিবার দুপুরের দিকে ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু মারফত মাহি জানতে পারেন, সুশান্ত সিং রাজপুত আত্মহত্যা করেছেন। তারপর থেকেই প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বেশ মুষড়ে পড়েছেন বলে দাবি করছে তাঁর ঘনিষ্ঠমহল। ধোনি নিজে চিরকালই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেন। ফোনেও কথা বলতে চান না। সোশ্যাল দুনিয়াতেও তিনি অনিয়মিত। ফলে তাঁর মনের অন্দরে সুশান্ত সিং রাজপুতের আচমকা আত্মহত্যার খবর ঠিক কতটা হইচই ফেলেছে, বলা বা বোঝা কঠিন। কিন্তু মাহির ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুপুরের দিকে বন্ধু মারফত সুশান্তের আত্মহত্যার খবর জানার পর থেকে নিজের পরিবারের সঙ্গেও খুব বেশি কথা বলেননি তিনি। নিজেকে সম্পূর্ণ আইসোলেশন মোডে নিয়ে চলে গিয়েছেন তিনি। যেখানে কারওর প্রবেশাধিকার নেই।

- Advertisement -

এমএস ধোনি, দ্য আনটোল্ড স্টোরি- ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছিল মাহির এই বায়োপিক। আর সেই বায়োপিকে ধোনির চরিত্রে অভিনয় করে আসমুদ্রহিমাচলের হৃদয় জিতে নিয়েছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। বরাবরের খুঁতখুঁতে ধোনি অনেক ভেবেই সুশান্তের ওপর ভরসা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্বও তৈরি হয়েছিল সিনেমার শুটিংয়ে সময়। ধোনির ছোটবেলার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গেও সুশান্ত সিং রাজপুতের বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে সময়। অরুণ পান্ডে ছিলেন এমএস ধোনি, দ্য আনটোল্ড স্টোরির প্রযোজক। তার থেকেও তাঁর বড় পরিচয় হল, তিনি ধোনির ছায়াসঙ্গী। ছোটবেলার বন্ধু তথা ব্যক্তিগত ম্যানেজার। অপরজন মিহির দিবাকর। তিনিও ধোনির ছোটবেলার বন্ধু, বর্তমানে মাহির ক্রিকেট অ্যাকাডেমির অন্যতম প্রধান কোচও। ধোনি ঘনিষ্ঠ এই দুজনই সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার ঘটনায় হতবাক তো বটেই, ঘটনার বেশ কয়ে ঘণ্টা পরে বিকালের দিকে যখন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় উত্তরবঙ্গ সংবাদের তরফে, দুজনেই ছিলেন বিস্ময়ে ঘোরের মধ্যে। যার রেশ আরও প্রবলভাবে রয়েছে মাহির মধ্যেও।

অরুণ পান্ডে বলেন, অত্যন্ত পরিশ্রমী ও প্রতিভাবান ছেলে ছিল সুশান্ত। এমএস ধোনি, দ্য আনটোল্ড স্টোরি সিনেমার সুবাদেই ওর সঙ্গে আমার ও মাহির আলাপ। মনে আছে, মুম্বইতে শুটিং শুরুর বেশ কিছুদিন আগে ধোনির সঙ্গে সুশান্তের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। মাহি বলেছিল, সুশান্তই ওকে চলচ্চিত্রের পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারবে। সফলও হয়েছিল ও। পরে শুটিংয়ের মাঝে আমরা দারুণ বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। সেই বন্ধুত্ব অটুটও ছিল। কিন্তু মাঝের সময়ে সুশান্ত যে মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল, জানা ছিল না আমার। মাহিও জানত বলে মনে হয় না। আজ সুশান্তের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বারবার মনে হচ্ছে একটা ঘটনার কথা। মনে আছে, শুটিংয়ে সময় একবার সাইড স্ট্রেন হয়েছিল সুশান্তের। সাধারণত দিন পনেরো লাগে পুরো সুস্থ হতে। সুশান্ত মাত্র সাত দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরেছিল শুটিংয়ে ফ্লোরে। যা শুনে ধোনিও অবাক হয়ে ওকে প্রশ্ন করেছিল, এমন ফিটনেস ও মনের জোরের রহস্য কী? সেই ছেলে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করবে, ভাবাই যায় না। মাহিও এমন খবরে ভেঙে পড়েছে।

ধোনির বন্ধু মিহির দিবাকরের কথায়, এমএস ধোনি, দ্য আনটোল্ড স্টোরি, মাহির জীবন নিয়ে সিনেমার সুবাদেই আমার সঙ্গে সুশান্তের আলাপ। মাহি তখন জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য দেশের বাইরে। অরুণের (পান্ডে) থেকে হঠাৎ জানতে পারলাম, সুশান্ত রাঁচিতে আসছে। আমার ওপর দায়িত্ব পড়েছিল, মাহির ধোনি হয়ে ওঠার বাড়ি, স্কুল থেকে শুরু করে ক্রিকেট মাঠ- সব ঘুরিয়ে দেখাতে হবে সুশান্তকে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই প্রথম সুশান্তের সঙ্গে আমার পরিচয়। প্রথম দর্শনেই ওর অন্দরের স্পিরিট ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা ভালো লেগেছিল আমার। পরে সিনেমার শুটিংয়ে সময়ও সেই অভিজ্ঞতা শুধু আমার নয়, সবার, এমনকি মাহিরও হয়েছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে মুম্বই গেলেই ওর সঙ্গে কথা হত। অনেক সময় ওর বান্দ্রার বাড়িতেও গিয়েছি। সেই বাড়িতেই ও নিজেকে এভাবে শেষ করে দেবে, ভাবতেই পারছি না। মাহির মনে এখন কী চলছে, সেটার আন্দাজও পাচ্ছি। আমার মতো ধোনিও এখন ঘোরের মধ্যে রয়েছে।