দূষণের গ্রাসে ধরধরা, বহু মানুষের জীবন বিপন্ন

82

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহরের পাশাপাশি শহর সংলগ্ন পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতে ধরধরা নদীর দূষণে লক্ষাধিক মানুষের জীবন দুর্বিষহ। এই নদীতে ৭০-এর দশকেও নদীয়ালি মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। নদীতে দূষণের জেরে নদীয়ালি মাছের প্রজনন এখন হয় না বললেই চলে। নদীর দুধারে পচা গন্ধে টেকা দায়। বারবার সেচ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠনগুলির তরফে এব্যাপারে লিখিত আকারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। ধরধরা নদীর দুধারেই এখন শুয়োরের পাল চষে বেড়ায়। নদীতে অবাধে আবর্জনা এবং জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের পিছনেই ধরধরা নদী। অভিযোগ, এক শ্রেণির রোগীর পরিবার জঞ্জাল নদীতে ফেলছেন।

জলপাইগুড়ি পুরসভা ঘটা করে ঘোষণা করেছিল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জলপাইগুড়ি শহর থেকে শুয়োর উচ্ছেদ করা হবে। প্রতিশ্রুতিই সার। শহরের হাসপাতাল চত্বরের পাশাপাশি নদীর চর কার্যত দখল করে রাখে শুয়োরের পাল। পরিণতিতে দূষণের মাত্রা প্রতিদিন বাড়ছে। বাড়ছে মানুষের ক্ষোভও। নদী ও সমাজ বাঁচাও কমিটির তরফে ধরধরা নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ১০০ দিনের কর্ম সুনিশ্চিত প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করার প্রস্তাব জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদকে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, ১০০ দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া যায় কি না তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

- Advertisement -

নদী ও সমাজ বাঁচাও কমিটির আহ্বায়ক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ধরধরা নদীর দূষণ নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ধরধরার দূষণ যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামী দিনে নদীর সংলগ্ন লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাপন করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক ডঃ রাজা রাউত বলেন, আমরা নির্দিষ্টভাবে ধরধরা নদীর দূষণের বিষয়ে সংগঠনগতভাবে প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবগত করেছি। ধরধরা নদী নদীয়ালি মাছে ভরপুর ছিল। বর্তমানে দূষণের জন্য এই নদীতে নদীয়ালি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। নদীয়ালি মাছের প্রজনন কার্যত বন্ধ। ধরধরা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সুমিতা বাসফোর জানান, এই নদীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। নাব্যতা হারিয়ে নদীটি বর্তমানে নালায় পরিণত হতে চলেছে। বর্ষায় জল উপচে পড়ে তাঁদের বাড়িতে জল ঢুকে পড়ে। শুয়োরের উপদ্রবে তাঁরা নাজেহাল। নদীর মধ্যে অবাধে জঞ্জাল ফেলা হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। সেচ দপ্তরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু ধর জানান, ধরধরা নদীর সমস্যা সম্পর্কে তাঁরা অবগত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে।