স্বামীর বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

315

ফাঁসিদেওয়া, ২৯ ডিসেম্বরঃ স্বামীর স্বীকৃতি পেতে এবং হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরতের দাবিতে এক মহিলা ধর্ণায় বসলেন। মঙ্গলবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের পূর্ব দন্দিয়াজোত গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া ব্লকের শিবমন্দিরের শলকাভিটা এলাকার বাসিন্দা ডলি মাহাতোর অভিযোগ, ফাঁসিদেওয়ার সংশ্লিষ্ট ওই গ্রামের বাসিন্দা অভিজিৎ বিশ্বাস দীর্ঘ ৭ বছর থেকে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিল। বছর ২ আগে তাঁকে মন্দিরে নিয়ে বিয়েও করেন। সম্প্রতি বাড়ি নির্মাণের জন্য মহিলার থেকে অভিযুক্ত অভিজিৎ ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলে মহিলা সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেছেন।

এদিন স্বামীর স্বীকৃতি পেতে ওই মহিলায় অভিযুক্তের বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসেন। যদিও, সংবাদমাধ্যম ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই বাড়ি থেকে অভিজিৎ পালিয়ে যান। এদিকে, ব্যক্তির পরিবারের সকলেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিন সন্ধ্যার পর মায়ের শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডলি নিজের বাড়ি ফিরেছেন। বুধবার বিষয়টি নিয়ে তিনি ফাঁসিদেওয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি, ফের ধর্ণায় বসার হুমকি দিয়েছেন। ফাঁসিদেওয়া থানা নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, অভিজিৎ বিশ্বাস বছর কয়েক আগে ফাঁসিদেওয়া ভক্তিনগরের বাসিন্দা মালবিকা দেবনাথকে বিয়ে করেন। এরপর শিবমন্দিরের বাসিন্দা তথা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ডলির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেন। ঘটনা জানাজানি হতেই, মালবিকা এবং ডলি উভয়েই অভিজিতের বিরুদ্ধে ফাঁসিদেওয়া থানায় প্রতারণা বিষয়ক মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এরইমাঝে মালবিকা অভিযুক্তের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করে। পরে, শিলিগুড়ি আদালতে দেওয়া ডলির সাক্ষীর ভিত্তিতে ১ মাস পর অভিজিৎ জেল থেকে ছাড়া পান।

অপরদিকে, বিষয়টি নিয়ে ওই ব্যক্তির পরিবার একাধিকবার ডলির বাড়িতে গিয়ে হামলা করে বলে অভিযোগ। ডলির প্রথম স্বামীর মেয়ে এবং মেয়ের জামাই তাঁর বাড়িতেই থাকে। তাঁদের ওপর অভিজিতের পরিবারের সদস্যরা হামলা করে বলেও অভিযোগ। ডলির দাবি, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পাকা ঘর নির্মাণের পর তাঁকে বাড়ি তুলবে বলে জানিয়েছিল। ডলি ৪ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে অভিজিতের হাতে তুলে দিয়েছিল বলে দাবি করেছে। সেই টাকা সুদে আসলে ৫ লক্ষ টাকা পেরিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, আরেক মহিলার সঙ্গে বিয়ের পাকা কথা হয়েছে শুনে এদিন ডলি অভিজিতের বাড়িতে ধর্ণায় বসে বলে খবর।

ডলি মাহাতো জানিয়েছেন, প্রমাণ লোপাটের জন্য অভিজিৎ ইতিমধ্যেই তাঁর মোবাইল ভেঙে দিয়েছেন। এভাবে হেনস্থার কারণে তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েছেন। সম্পর্ক শক্ত করার কথা বলে অভিজিৎ নতুন সম্পর্ক তৈরির ফাঁদে ফেলেছেন। এনিয়ে ২ জনের জীবন নিয়ে সে খেলা করেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এবারে তিনি অভিজিতের কাছ থেকে স্ত্রীর মর্যাদা দাবি করেছেন। অন্যথায়, টাকা ফেরতের পাশাপাশি, উপযুক্ত পুলিশি পদক্ষেপের দাবি করেছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে অভিজিতের ভাই বউ ইতি বিশ্বাস জানিয়েছেন, ওই মহিলা সব মিথ্যে অভিযোগ করছেন। টাকা দিয়েছেন কিংবা বিয়ে করেছেন এমন কোনও প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। তাঁর কথা সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু তাই নয়, উনি দীর্ঘদিন থেকেই এমন করছেন। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে কেস চলছে। ওই মহিলা প্রমাণ দিতে পারলে, টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এনিয়ে এরআগে মহিলার বাড়িতে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। অথচ, ডলি সেখানে উপস্থিত হননি। এতেই প্রমাণ হয়, এই ঘটনায় তাঁর দূর্বলতা রয়েছে।

অভিজিতের বৃদ্ধ বাবা জানিয়েছেন, একজন মহিলা টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁর ছেলেকে ফাঁসাতে চাইছেন। তিনি উপযুক্ত পুলিশ পদক্ষেপের দাবি করেছেন। এরআগে, ফাঁসিদেওয়া থানার পাশাপাশি, মাটিগাড়া থানায় ডলি মাহাতো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন বিকেলের পর থেকেই এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।