উজ্জ্বল রায়, ধূপগুড়ি : দুর্গাপুজোর সন্ধ্যা বলতেই আগে বোঝাত আরতি আর তার সঙ্গে ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ। বিভিন্ন পাড়ার দুর্গাপুজোয় ধুনুচি নাচ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতার আযোজন করা হয়েছে। সময় বদলেছে, নতুন প্রজন্মের কাছেও ফিকে হয়ে গিয়েছে ধুনুচি নাচের ক্রেজ। ধুনুচি নাচের জায়গায় এখন মণ্ডপে মণ্ডপে বাজে ডিজে। বিভিন্ন সংস্থার পুজোর বিজ্ঞাপনে ধুনুচি নাচের দেখা মিললেও বাস্তবে এই ঐতিহ্য এখন মুছে যাওয়ার মুখে।

আজ থেকে ১০ বা ১৫ বছর আগেও বাঙালি ছেলেরা শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে ধুতি পড়ে ধুনুচি নাচে নেমে পড়ত। ঢাকের তালে, ধুনুচির ধোঁয়ায়, ধূপের গন্ধে প্রতিমার সামনে তৈরি হত এক মোহময় পরিবেশ। ধূপগুড়ির প্রবীণ বাসিন্দা নারায়ণচন্দ্র রায়, সুনীল রায়, ভোলানাথ রায়ে কথায়, আগের প্রতিটা পুজোমণ্ডপে ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা হত। সেই ধুনুচি নাচ দেখতে  বহু দূর থেকে লোক আসতেন। ধুনুচি নাচের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন ধূপগুড়ির মাগুরমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ঠাকুরদাস হাজরা। বছরের বাকি দিনগুলিতে চাষবাস করলেও পুজোর কয়েদিন ঠাকুরদাসবাবু বিভিন্ন মণ্ডপে ধুনুচি নাচ দেখিয়ে বেড়ান। তাঁকে নিয়ে পুজোর কয়েকটা দিন বিভিন্ন পুজো কমিটিগুলির মধ্যে টানাটানি পড়ে যায়। ঠাকুরদাস হাজরার বাড়ি গিয়ে দেখা গেল, তিনি ব্যস্ত ধুনুচি নাচের মহড়ায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ থেকে ডাক এসেছে সপ্তমী থেকে ধুনুচি নাচ দেখানোর জন্য। ভালো নাচ দেখাতে পারলে, অনেকে সন্তুষ্ট হয়ে পুরস্কৃত করবে। সেই টাকায় পুজোর কয়েকটা দিন ভালোই চলবে। ধুনুচি নাচের প্রসঙ্গে ঠাকুরদাস হাজরা বলেন, অন্যান্য অনেক শিল্পের মতো হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্প। ধুনুচি নাচের সময় যেভাবে ঢাকিরা ঢাক বাজান, তা  রীতিমতো শাস্ত্রীয়। তবে এখন তো পুজোমণ্ডপগুলিতে বেশি চলে ডিজের গান। থিমপুজোর গুঁতোয় যেমন দুর্গাপুজোর সাবেকি আবেগ হারিয়ে যেতে বসেছে, তেমনই ধুনুচি নাচ কমতে থাকায় মা দুর্গার আরতিও একটু য়েন ফিকে হয়েছে।