কোয়ারান্টিন সেন্টার গড়তে দিয়ে ২০ লক্ষ গচ্চা, বিপাকে কলেজ

157

ধূপগুড়ি : গত বছরের প্রথম দিকে করোনা সংক্রমণ বাড়তেই ভিনরাজ্য থেকে ফিরে আসতে শুরু করেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তখন বাইরে থেকে এসে সকলকেই কোয়ারান্টিন সেন্টারে থাকতে হচ্ছিল। কোনও লিখিত আদেশ ছাড়াই গত বছর ১৪ মে ধূপগুড়ি গার্লস কলেজে কোয়ারান্টিন সেন্টার চালু হয়েছিল। ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সেখানে সরকারি খরচে রাখা হয়েছিল পরিযায়ীদের। তারপর স্যানিটাইজ করে গত ডিসেম্বরে কলেজ ভবনটি কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কলেজে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ কলেজকর্মীদের। ভবনের সর্বত্র ভাঙচুরের চিহ্ন। ফলে কলেজে কোয়ারান্টিন সেন্টার গড়তে দিয়ে এখন মাথায় হাত ধূপগুড়ি গার্লস কলেজ কর্তৃপক্ষের। কলেজ সূত্রে খবর, কলেজ হাতে পাওয়ার আগেই ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে একটা প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তরে। প্রাথমিক সেই রিপোর্টে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতির হিসেব দেখানো হলেও কলেজ খোলার পর ক্ষতির পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকা পেরিয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গোটা চত্বরে লাগানো ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ১০০ জোড়ার ওপর বেঞ্চ, জানলার কাচ, শৌচাগারের বেসিন, ফ্যান অবধি ভাঙা। ল্যাবরেটরির জানলা থেকে ভিতরের জিনিসও ক্ষতিগ্রস্ত। ভেঙে ফেলা হয়েছে অফিস রুমের দরজা। অনেক দরকারি জিনিসপত্র উধাও। কলেজ বিল্ডিং-এর মতোই খারাপ অবস্থা বছরখানেক আগে এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্যান্টিন ভবনটির। ক্যান্টিনের ভিতরের প্রায় কিছুই অক্ষত নেই।
বেহাল দশায় কলেজ ফেরত পেলেও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে চিন্তায় কর্তৃপক্ষ। কোয়ারান্টিন সেন্টার হিসেবে কলেজ নেওয়ার সময় পুরসভা বা প্রশাসনের তরফে কোনও লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্যামল বিশ্বাস বলেন, সেসময় ব্লক ও পুরসভার তরফ থেকে ফোনে চাবি চাওয়া হয়। এক কর্মী চাবি দিয়ে যান। কলেজ তো মানুষেরই সম্পদ। সেটাকে এভাবে কেন নষ্ট করা হল জানি না। যাঁরা এসব করলেন তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি ন্যূনতম সম্মান রয়েছে বলে মনে হয় না। মেরামত করতে এত টাকা কোথায় পাব জানি না।
তিন মাস কোয়ারান্টিন সেন্টার থাকাকালীন একাধিকবার ওই কলেজে আবাসিকদের বিক্ষোভ হয়েছে। সেই সময়ই কলেজে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। তবে কলেজের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। যখন কলেজটিতে কোয়ারান্টিন সেন্টার তৈরি করা হয়, তখন এর পরিচালন কমিটির সম্পাদক ছিলেন উপ পুরপ্রধান রাজেশকুমার সিং। তিনি বলেন, সেসময় ভাবার মতো পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু কলেজের এখনকার অবস্থা দেখলে চোখে জল আসে। সব সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো বলে কারা এমন কাজ করল সেটা চিহ্নিত করা শক্ত।