দিনদুপুরে শহরজুড়ে আনলোডিং চলে, যানজটে জেরবার ধূপগুড়ি

308

ধূপগুড়ি : আলুর বীজ বিক্রির সময় শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তা আটকে আনলোড করা হত বীজ বোঝাই ট্রাক। তার জেরে যানজটের কারণে দুর্বিষহ অবস্থা হত পথচলতি সাধারণ মানুষের এবং ছোট বড়ো গাড়ির চালকদের। বছর তিনেক আগে ধূপগুড়ি থানা, ট্রাফিক গার্ড এবং পুরসভার হস্তক্ষেপে ঠিক হয় শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলিতে সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত গাড়ি থামিয়ে মাল ওঠানামা করানো যাবে না। সেই থেকে ভিন রাজ্য থেকে আসা আলুবীজ বোঝাই ট্রাক ভোরে বা বেশি রাতে আনলোড করা হয় শহরজুড়ে। এভাবে সাময়িক সমস্যা মিটলেও সম্রতি পুরসভা এবং ট্রাফিক বিভাগের নজরদারির অভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় দিনে দুপুরে রাস্তা আটকে ট্রাক দাঁড় করিয়ে মাল ওঠানামা ফের শুরু হয়েছে।

ধূপগুড়ি স্টেশনে যেদিন সিমেন্ট সহ অন্যান্য জিনিসের রেক খালি হয় সেদিন সেই রেক থেকে নামানো সামগ্রী শহরের বুকে গড়ে ওঠা বড়ো বড়ো গুদামে পৌঁছাতে ভিড় করে ট্রাকের সারি। জাতীয় সড়ক হোক বা শহরের গলিপথ সব জায়গায় পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ধূপগুড়ি মিলপাড়া এলাকায় প্রায়ই এই সমস্যায় পড়তে হয়য় সাধারণ মানুষকে। এনিয়ে প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার বাসিন্দারাও। মিলপাড়ার বাসিন্দা সৌম্যজিত সিনহা বলেন, ‘শহরের বসতি এলাকায় কেন সিমেন্টের গোডাউন করার অনুমতি পুরসভা দিল তা জানি না। কিন্তু এভাবে প্রতিদিন রাস্তা আটকে থাকলে চরম সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। উপরি হিসেবে সিমেন্টের ধুলোয় এলাকা ঢেকে যায়। এই সমস্যার সমাধানে পুরসভা তথা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের হস্তক্ষেপ চাই আমরা।’ এই সমস্যায় জেরবার শহরের আরও কিছু এলাকার বাসিন্দারা। কিছুক্ষেত্রে আবার স্থানীয় কেষ্ট-বিষ্টুদের মদতেই রাস্তা আটকে আনলোডিং বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গোডাউন চলছে।

- Advertisement -

ট্রাক মালিকদের সংগঠনের তরফে সকলে মিলে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। ধূপগুড়ি মোটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েসনের সম্পাদক অখিল পাল বলেন, রেক দিনেরবেলায় এলে তা খালি করতেই হবে না হলে তা ফেরত চলে যাবে। বড়ো ব্যবসায়ী এবং কোম্পানির পাশাপাশি এরসঙ্গে পরিবহণকর্মী এবং শ্রমিকদের রুজি রুটি জড়িত। তবে কোনোবস্থাতেই সাধারণ মানুষের সমস্যা করে তা চলতে পারে না।এবিষয়ে পুরসভা এবং ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশিকা যাতে অমান্য না হয় আবার সময়ে রেক খালি হয় তার জন্য গোডাউনগুলিতে যাতে এক সময়ে একটি বা দুটি ট্রাক ঢোকে তা আমরা দেখবো। এতে যানজট যেমন হবে না তেমনই সাধারণ মানুষের সমস্যাও হবে না।

ধূপগুড়ি পুরসভা বিষয়টিতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং বলেন, ‘আমরা পুরসভার তরফ থেকে বরাবর বলেছি যে ব্যবসা অবশ্যই চলবে, তবে তা সাধারণ মানুষের সমস্যা করে নয়। কোথাও বাসিন্দারা সমস্যায় পড়ছে, এমন কাজ করতে দেওয়ায় হবে না। এবিষয়ে আমরা এলাকাগতভাবে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’

ধূপগুড়ি থানার আইসি সুবীর কর্মকার বলেন, ‘সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা ভেবেই থানা রোডে ভারী যান চলাচল আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি দিনের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। ঠিক সেভাবেই মানুষের ভোগান্তি যাতে না হয়, সেদিকে সকলেরই নজর দিতে হবে।’

ছবি – জাতীয় সড়কের পাশে সার্ভিস রোড আটকে মাল খালাসের অপেক্ষায় দাঁড়ানো ট্রাকের সাড়ি।

তথ্য ও ছবি- সপ্তর্ষি সরকার