চরম রক্ত সংকটে ডায়ালিসিস বন্ধ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে

363

রায়গঞ্জ: বিভিন্ন সংগঠন বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা বাড়লেও সেই অর্থে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্তের সংকট কিছুতেই মিটছে না। দুর্গাপুজো, কালীপুজ্ ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোর পরেও সে সমস্যা রয়ে গিয়েছে।
লকডাউনের মধ্যে রক্ত সংকট চরমে উঠেছিল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে। সেসময় কোনও সংগঠনের তরফেই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছিল না। পরে আনলক পর্ব শুরু হওয়ায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কমেছে রক্তদাতার সংখ্যা। ফলে রক্ত সংকট মেটানোর জন্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তদান শিবিরের সংখ্যা বাড়ালেও খামতি থেকেই যাচ্ছে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, করোনা সংক্রমনের আতঙ্কেই শিবিরের রক্তদানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেক দাতা। করোনা পরিস্থিতির আগে শিবিরের সংখ্যা কম হলেও সেখান থেকে সংগৃহীত রক্তের পরিমাণ বেশি হত। যেহেতু তাতে যোগ দিতেন অনেক বেশি রক্তদাতা। এখন সে জায়গায় সংখ্যায় শিবির হচ্ছে বেশি। কিন্তু রক্ত আশানুরূপ সংগৃহীত হচ্ছে না।

- Advertisement -

চরম রক্ত সংকটে ডায়ালিসিস বন্ধ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

এদিন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের ডেইলি স্টক ছিল এ পজেটিভ ০০, বি পজেটিভ ০০, ও পজেটিভ ০৫, এবি পজেটিভ ০০, এ নেগেটিভ ০০, বি নেগেটিভ ০০, ও নেগেটিভ ০৩, এবি নেগেটিভ ০০। আগে রায়গঞ্জ হাসপাতালে প্রতিদিন যে রক্তের চাহিদা থাকতো, এখন সেটাও অনেকটাই বেড়েছে। কারণ এখন হাসপাতালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে উঠেছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, মেডিকেল কলেজ হওয়ার পর এখানে রক্তের চাহিদা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এদিকে করোনার ভয়ে রক্তের জোগান বেশ কম। এজন্য রক্তদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলছে ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে রায়গঞ্জ মেডিকেল ও কলেজ হাসপাতালে রক্তের চরম সঙ্কটের দরুন বাধ্য হয়েই বোর্ডের লিখতে হচ্ছে ‘রক্ত দিন, রক্ত নিন’।

রবিবার রায়গঞ্জ কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন মুমূর্ষ রোগীর পরিজনদের রক্তের বদলে রক্ত নিতে হয়েছে। কিডনি সংক্রান্ত রোগে যারা ভুগছেন তাদের ডায়ালাইসিস করার জন্য রক্তের প্রয়োজন পরিবারের তরফ থেকে রক্ত ডোনেট করলে তবেই ডায়ালিসিস হচ্ছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালিসিস বিভাগে রক্ত সংকটের ফলে এদিন ডায়ালিসিস থমকে গিয়েছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বেসরকারি নার্সিং হোমের অবস্থাও তাই। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে কিছু রক্ত পাওয়া যাচ্ছে তবে যে পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন তা আমরা পাচ্ছি না। আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে অনুরোধ করছি রক্তদান শিবিরের জন্য নচেৎ ভয়ঙ্কর আকার নিবে।‘

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার পর থেকে রক্ত সংকট চরমে যদিও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক নার্সেরা উদ্যোগ নিয়ে করেছিল তাতেও কিছু হয়নি। যে পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন সেই পরিমান রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না।‘

এবিষয়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক চন্দনা পাত্র বলেন, ‘রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গঠিত হওয়ার পর অবশ্যই রক্তের চাহিদা অনেকটা বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা এই চাহিদা মেটাতে আরও বেশি শিবিরের বন্দোবস্ত করেছি। অনেক শিবির হয়েওছে। তবে সেভাবে রক্তের যোগান নেই। রক্তদাতাদের মধ্যে সচেতনতা না থাকার কারণে সমস্যা হচ্ছে। আমরা যেকোনও উপায়ে সমস্যা মেটানোর জন্য দিনরাত কাজ করছি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে শুরু করে অন্যান্য সংগঠনও এই রক্ত সংকট মেটাতে এগিয়ে আসছেন। আমরাও চেষ্টা করছি যাতে কোনওভাবেই এই সমস্যা না থাকে।‘

রায়গঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অনেকেই নিজ উদ্যোগে রক্তদান শিবির করছেন। সেখানে রক্তদাতাদের অভাব চোখে পড়েছে। তাই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা বারবার করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। রক্তদাতাদের সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত উপায়ে রক্ত নেওয়ার বিষয়ে বোঝানো হচ্ছে। আশা করছি, এই সমস্যা মিটে যাবে।‘

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ ইউনিট রক্তের চাহিদা থাকে। এই চাহিদাই আগে ছিল ৩৫ থেকে ৩৮ ইউনিট। ব্লাড ব্যাঙ্কের এক একাধিক বলেন, ‘গত অক্টোবর মাসে মোট ৩২টি শিবির হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। নভেম্বর মাসেও বিভিন্ন জায়গায় শিবিরের আয়োজন করার জন্য আবেদন এসেছে। শিবিরের সংখ্যা বাড়াটা ভালো দিক। কিন্তু আগে যেসব শিবির থেকে ৭০-১০০ ইউনিট রক্ত সংগৃহীত হতো, এখন সেসব জায়গা থেকে মাত্র ৩০-৪০ ইউনিট রক্ত আসছে।‘