মুসলিমদের তালাক দিয়ে হিন্দুদের সঙ্গে ঘর করছেন দিদি: অধীর

200

চাঁচল: শুক্রবার চাঁচলে জোট প্রার্থী আসিফ মেহবুবের সমর্থনে নির্বাচনি প্রচারে এসেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এদিন সকাল ১০টায় চাঁচল কলেজ বয়েজ হোস্টেল মাঠে হেলিপ‍্যাডে নামেন অধীরবাবু। তারপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলার মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ‍্যায়কে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন তিনি। পাশাপাশি চাঁচলের তৃণমূল প্রার্থী নীহারকে বাজারে বিক্রি হওয়া বকরির সাথে তুলনা করেন।

অধীরবাবু বলেন, ‘সংখ‍্যালঘুদের ইমাম ভাতা ও মোয়াজ্জেন ভাতা ওয়াকফ বোর্ড থেকে দেওয়া হয়। ওয়াকফ বোর্ড মুসলমানদের নিজস্ব সম্পত্তি দিয়ে তৈরি। ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলমানদের দানে তৈরি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলমানদের ইমাম ও মোয়াজ্জেন ভাতা দিয়ে মাছের তেলে মাছ ভাজছে। গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো করছেন। ইমাম ও মোয়াজ্জেন ভাতা দেওয়ার নামে মুসলিম ভাইদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন।‘ তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সংখ‍্যালঘুদের তালাক দিয়ে হিন্দুদের সঙ্গে ঘর করছেন।‘ এভাবেই কটাক্ষ সুর চড়ালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

- Advertisement -

তালাক দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রমান হিসেবে বলেন, ‘তৃণমূলের এবারের প্রার্থী তালিকায় গতবারের তুলনায় উনিশ শতাংশ কম মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। ১৯৭৭ সালে যেখানে মুসলিমদের ৯% সরকারি চাকরি ছিল সেখানে দিদির আমলে ১.৪৫% এসে দাঁড়িয়েছে। দিদি এখন আর নামাজের কাতারে দাঁড়ান না। তিনি হিন্দুদের পুজোয় পঞ্চাশ হাজার টাকা করে দেন কিন্তু মুসলিমদের ঈদে সেমাই কিনতে দেন না। মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্র বাংলার মুসলমানদের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। মুসলমানদের কাছে ভোট চাওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই বাংলায় বিজেপি ঢুকতে পেরেছেন।

অধীরবাবু আরও বলেন, ‘দেশে রুটি, রুজির বড়ই অভাব। ৫৪ বছর দেশ চালিয়েছে কংগ্রেস। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবই করেছে কংগ্রেস। ৭৩ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ মকুব করেছে কংগ্রেস। ১০০ দিনের কাজ, খাদ্য সুরক্ষা আইন, বিদ্যুত, আইসিডিএস, মিড-ডে-মিল সবই চালু করেছে কংগ্রেস। রাজ্যে জোট সরকার আসলে ছত্রিশগড়ের মতো ন্যায় প্রকল্পে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৫৭০০ টাকা করে দেওয়া হবে।‘ এছাড়াও তিনি গনি খান ও প্ৰিয় রঞ্জনদাস মুন্সীর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ওনারা কি করেছেন আপনারা সবই জানেন। গনিখান বাঁধ নির্মাণ করে উত্তর মালদার মানুষকে রক্ষা করেছেন।‘