দিনে-রাতে তাপমাত্রার ফারাক, বাড়ছে জ্বর-সর্দি

98

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার জেরে শিলিগুড়ির ঘরে ঘরে এখন জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়েছে। ইতিমধ্যে বহু মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একবার হলে পাঁচ থেকে সাতদিন পর্যন্ত এ ধরনের জ্বর-সর্দির উপসর্গ থেকে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে এই রোগ আবার ছোঁয়াচেও। এদিকে, করোনার সঙ্গে এ ধরনের অসুখের উপসর্গের মিল থাকায় ওই সর্দি-জ্বর নিয়ে করোনার আতঙ্কও ছড়াচ্ছে।

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এমনিতে প্রতিবছর গরম পড়তে শুরু করে দেয়। এবছর দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পেরিয়ে গেলেও রাতে তা থাকছে অনেকটাই কম। ২২ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি। দিনে-রাতে তাপমাত্রার মধ্যে প্রায় ১০ ডিগ্রির এই ফারাকই সমস্যা তৈরি করে দিচ্ছে। রাতে শোওয়ার সময় ফ্যান চালালে আরাম লাগলেও ভোরের দিকে ঠান্ডা লাগছে। এই ঠান্ডা-গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে জ্বর ও সর্দির প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার অনেকেই দিনের বেলায় গরম থেকে রেহাই পেতে ঠান্ডা পানীয় পান করছেন। আইসক্রিম খাচ্ছেন। অনেকেই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরের ভিতর থেকে বাইরে রোদের মধ্যে বেরিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক ডাঃ মানস দাস বলেন, প্রতিবছর আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ই এই ভাইরাল ফিভারের প্রকোপ দেখা দেয়। বর্তমানে করোনা মহামারির জন্য মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। এই ভাইরাল ফিভার থেকে বাঁচতে ঠান্ডা-গরম লাগার থেকে সামলে চলতে হবে। রাতে জোরে ফ্যান চালিয়ে ঘুমানো যাবে না। তাহলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। গরম থেকে এসে হঠাৎ করে এসি ঘরে ঢোকা যাবে না। আবার এসি ঘরের ভেতর থেকে হুট করে গরমে রোদের মধ্যে বের হওয়া যাবে না। ভাইরাল ফিভার যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্যও মাস্ক পরার দাওয়াই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সেইসঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে ভিটামিন সি-যুক্ত খাদ্য খেতে পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

চিকিৎসক মানসবাবু বলেন, বয়স্কদের জন্য একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন হয়। যেটা বছরে একবার করে নিতে হয়। যেসব বয়স্ক ব্যক্তির জ্বর, সর্দির মতো উপসর্গ রয়েছে বা হৃদরোগ, হাইপারটেনশন অথবা ক্যানসার রয়েছে, তাঁরাও এই ভ্যাকসিন নিতে পারেন। এই ভ্যাকসিন নিলে ভাইরাল ফিভার হওয়ার  সম্ভাবনা কমে।