ট্রাইসাইকেলের অভাবে স্কুলে যাচ্ছে না কিশন

179

নাগরাকাটা : হতদরিদ্র আদিবাসী পরিবারের বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র কিশন মুন্ডা ট্রাইসাইকেলের অভাবে স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। কিশন নাগরাকাটা হিন্দি মাধ্যমিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া। সে ফের স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু অভাব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গৃহকর্তা দিনমজুরি করে যা আয় করেন তা দিয়ে ৩ জনের সংসার চলে। র‌্যাশনকার্ড নেই। ফলে সস্তার সরকারি চাল-আটাও জোটে না। নাগরাকাটার বিডিও স্মৃতা সুব্বা বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। ছাত্রটি যাতে ফের স্কুলে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা করব। ওর পাশে আছি।

নাগরাকাটার চা গবেষণা সংস্থার (টিআরএ) অফিস ঘেঁষে কিশনদের বাড়ি। বাবা টারজান মুন্ডার নির্দিষ্ট আয় বলতে কিছু নেই। বাড়িতে কিশনের বৃদ্ধা ঠাকুমা রয়েথেন। রোজ সকালে তিনি পাশের জঙ্গলে চলে যান। সেখান থেকে শাকপাতা কুড়িয়ে এনে রান্না করেন। যেদিন টারজান মুন্ডার কাজ জোটে না সেদিন গোটা পরিবারকে আধপেটা খেয়ে কাটাতে হয়। তা নিয়ে অবশ্য তাঁর আক্ষেপ নেই। কিন্তু বহু চেষ্টার পরও র‌্যাশনকার্ড না পাওয়াটাই তাঁর খেদের কারণ। তিনি বলেন, কত জায়গায় ঘুরেছি। সবাই শুধু আশ্বাস দেয়। র‌্যাশনকার্ড আর হয় না।

দারিদ্র‌্যের কারণে ছেলেকে ট্রাইসাইকেল কিনে দিতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। তিনি জানান, ছোটোবেলা থেকেই কিশনের নানারকম শারীরিক জটিলতা রয়েছে। আগে কোনোরকমে শরীর টেনে যতটুকু বা হাঁটাচলা করতে পারত, আস্তে আস্তে তাও বন্ধ হওয়ার পথে। এদিকে বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্বও ওর পক্ষে যথেষ্ট বেশি। নাগরাকাটা হিন্দি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় সাহা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে কিশন স্কুলে আসছে না। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেব। স্কুলের তরফে যতটা সম্ভব ওর পাশে থাকার চেষ্টা করি। তবে আরও কেউ ওকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলে ভালো হয়।