মায়ের কোলে চেপে মাধ্যমিকে এক ফুটের পাপ্পু

363

ধূপগুড়ি : বামন হযে চাঁদে হাত দেওযা নয়, বামন হয়ে মাধ্যমিকে বসা! মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কেউ হেঁটে, কেউ সাইকেলে, কেউ বা আবার বাবা-দাদার মোটরবাইক বা গাড়িতে চেপে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে। কিন্তু মায়ের কোলে চেপে মাধ্যমিকে বসা! পড়তে গিয়ে প্রাথমিকভাবে হোঁচট খেতে হলেও বাস্তবিক এই ঘটনাই ঘটছে ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েছের ডাউকিমারি হাইস্কুলে। রোজ মায়ের কোলে চেপে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসছে পাপ্পু রায়। পরীক্ষা শেষ হলে আবার মায়ের কোলে চেপেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। ইচ্ছে থাকলেও তার হাঁটার জো নেই। কারণ পাপ্পুর উচ্চতা মাত্র এক ফুট। শারীরিক এই অসুবিধার জন্য স্বাভাবিক হাঁটাচলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ভরসা মায়ের কোল। তবে উচ্চতায় খাটো হলেও ইচ্ছাশক্তি বা মনের জোরের এতটুকু কমতি নেই পাপ্পুর। বরং গড়পড়তা স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে বেশিই রয়েছে। তাই যাবতীয় তাচ্ছিল্য, ব্যঙ্গ উপেক্ষা করেই মাধ্যমিকে বসেছে পাপ্পু।

শারীরিক দিক থেকে ৯০ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম পাপ্পু ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর আলতাগ্রামের বাসিন্দা। সে কালীরহাট দেওয়ানচন্দ্র হাইস্কুলের ছাত্র। ডাউকিমারি হাইস্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তবে মায়ের কোলে চেপে পরীক্ষাকেন্দ্রে এলেও পরীক্ষা দিতে কিন্তু কারও সাহায্য নিচ্ছে না সে। তার হাতের লেখা একেবারে মুক্তোর মতো। মানসিক বিকাশও যথেষ্ট। পেশায় দিনমজুর বাবা বিশ্বনাথ রায় এবং মা রেণুকা রায়ের টানাটানির সংসারে পাপ্পুর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেনি। কারণ পরিবারে অভাব থাকলেও ছেলের অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে বাবা-মা দুজনেই পাপ্পুকে পড়াশোনায় সব সময় বাড়তি উৎসাহ দিযে এসেছেন।

- Advertisement -

বাড়িতেও একা একা হাঁটাচলা করতে পারে না পাপ্পু। তার সঙ্গে একজনকে থাকতেই হয়। অন্য কারও সহায়তা ছাড়া সে বাড়ির বাইরে বা স্কুলে যাতায়াত করতে পারে না। তার শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত সে স্কুলেও যেতে পারে না। কিন্তু পাপ্পুর পরীক্ষায় বসার ইচ্ছা এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে কালীরহাট দেওয়ানচন্দ্র হাইস্কুলের শিক্ষকরাও তাকে স্কুলে আসতে বিশেষ চাপ দেননি। উলটে  সহযোগিতা করেছেন। পাপ্পুর জন্যে তার বাড়িতেই একটি হুইলচেযার রয়েছে। ওই চেয়ারে বসেই সে দিন কাটায়। হুইলচেয়ারে বসে পড়াশোনাও করে। ওই হুইলচেয়ারের পাদানিতে তার পা পেঁছায় না। তাই একবার ওই চেয়ারে বসে পড়লে অন্যদের সাহায্য ছাড়া আর উঠতে পারে না।

পাপ্পু জানায়, এখনও পর্যন্ত মাধ্যমিকের সবকটি পরীক্ষা ভালো হয়েছে। সাধারণ বেঞ্চে তার পক্ষে বসা সম্ভব নয়। পাপ্পুর জন্য একটা টেবিলের উপর বিছানার মতো করে বালিশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই বালিশে হেলান দিযে পরীক্ষা দিচ্ছে পাপ্পু। ডাউকিমারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খগেন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, পাপ্পুর হাতের লেখা খুব ভালো। বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় তার সুবিধা মতোই বন্দোবস্ত করে দেওযা হয়েছে।

ছবি- পাপ্পু রায়।

তথ্য ও ছবি- শুভাশিস বসাক