মাস্ক বানিয়ে তাক লাগাচ্ছেন বিশেষভাবে সক্ষমরা

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : লকডাউনের প্রথমদিকে মাস্ক তৈরির শুরুটা হয়েছিল নিজেদের সুরক্ষার জন্যই। তবে, পরিস্থিতির চাপে সেই মাস্কের চাহিদা এখন কার্যত তুঙ্গে উঠেছে। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে সরকার থেকে চিকিৎসকরা। তাই সেই চাদিহার কথা মাথায় রেখেই নাওয়া-খাওয়া ভুলে স্বপ্নতোরণের সঙ্গে যুক্ত ১০ জন বিশেষভাবে সক্ষম যুবক-যুবতী প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মাস্ক তৈরি করছেন। সেই মাস্ক বিভিন্ন সরকারি দপ্তর তো বটেই, জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন দোকান ছাড়িয়ে পাড়ি জমাচ্ছে আশপাশের একাধিক ব্লক, শহরে। স্বপ্নতোরণ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা বালিকা বিদ্যালয়ে সামনে একটি স্টল করে নূ্য়নতম দামে মাস্কগুলি বিক্রি করা হচ্ছে।

যদিও বিশেষভাবে সক্ষমদের হাতের কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভর করা হিসেবে মানুষের কাছে এই সংস্থাটি পরিচিত। কিন্তু লকডাউন যে এভাবে পুরো বিষয়টিকে বদলে দেবে তা হয়তো স্বপ্নতোরণের সঙ্গে যুক্ত থাকা কেউই ভাবেননি। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মাস্ক তৈরির জন্য বিশেষভাবে সক্ষমদের পাশাপাশি, আশপাশের দুঃস্থ পরিবারের মহিলাদেরও এই কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এরজন্য মাস্কপ্রতি পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। ২০০৭ সাল থেকে জলপাইগুড়ি শহরের সেনপাড়ার যুবক দেবাশিস চক্রবর্তীর হাত ধরে স্বপ্নতোরণের পথচলা শুরু। বিশেষভাবে সক্ষমদের হস্ত ও কুটিরশিল্প শিখিয়ে স্বনির্ভর করে তোলাই সংস্থাটির উদ্দেশ্য ছিল। পরবর্তীতে সরকারি বিভিন্ন মেলা ছাড়াও দুর্গা এবং কালীপুজোতেও স্বপ্নতোরণের এই শিল্পীদের মণ্ডপসজ্জার দায়িত্ব নিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু টেলারিংয়ে কাজের সঙ্গে আগে তেমন পরিচিতি ছিল না তাঁদের।

- Advertisement -

স্বপ্নতোরণের পক্ষে দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, লকডাউন শুরুর পর নিজেদের জন্য কিছু মাস্ক বানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মাস্কগুলির গুণগতমান ভালো হওয়ায় প্রায় ১ হাজার মাস্ক বানিয়ে আমরা বিলি করেছি। তারপর বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের তৈরি মাস্কের চাহিদা আসে। এরপর বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও সেলাই মেশিন কিনে কাজ শুরু করা হয়। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল, পোস্ট অফিস এবং একাধিক সরকারি দপ্তরে আমরা মাস্ক দিয়েছি। স্বপ্নতোরণের সদস্য বাবুয়া মিত্র বলেন, মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ মাস্ক তৈরি করে আমরা ন্যূনতম দামে সরবরাহ করেছি। শুধু তাই নয়, আমাদের সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বিশেষভাবে সক্ষম ছাড়াও আশপাশের আরও ১২ জন মহিলা এই কাজে যুক্ত হয়েছেন।