উন্নয়ন করলে দৌড়ে গিয়ে খাটিয়ায় বসতে হত না, মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ দিলীপের

356

সিউড়ি: ‘উন্নয়ন করলে দৌড়ে গিয়ে খাটিয়ায় বসতে হতো না’। বীরভূমের সিউড়িতে এসে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতেই বীরভূম সফরে আসেন দিলীপবাবু। বুধবার সাতসকালে হোটেল থেকে বেরিয়ে খেজুর রস খেয়ে প্রাতর্ভ্রমণে সিউড়ির সেচ দপ্তরের মাঠে হাঁটেন তিনি। পথচলতি মানুষের সঙ্গে কথা বলে জনসংযোগ বাড়ানোর উপর জোড় দেন। এরপর একের পল্লি মোড়ে চা চক্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই রাজ্য সরকার, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং বীরভূম জেলা প্রশাসনকে একহাত নেন দিলীপবাবু।

প্রথমেই তিনি বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, ‘কংগ্রেসের গড় ছিল। কিন্তু এখন কোথায়? একটা সাংসদ জিততে পারল না। একজন ল্যাংড়া, আর একজন অন্ধ। একে অন্যের কাঁধে হাত দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। আজকের সিপিএম, কংগ্রেসের অবস্থা এরকম।’

- Advertisement -

আর এরপরই তৃণমূলের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপবাবু বলেন, ‘তৃণমূল এখানে পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। যদি নিজেদের গড় থাকত, ক্ষমতা থাকত, তাহলে ১১৮টি পুরসভা এবং কলকাতা কর্পোরেশনে নির্বাচন করত। জানে বিজেপি জিতবে, কোনও গড় নাই। আর যদি গড় থাকে তাহলে আমরা ভেঙে দেব।’

বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অনেকেই অনেক কথা বলে। আমি অনুব্রতবাবুকে বলে দিচ্ছি, এখানকার মানুষ বিজেপিকে চায় কিনা তার প্রমাণ দিয়ে দিয়েছে লোকসভা নির্বাচনে। এই সিউড়িতে ২১টি ওয়ার্ড আছে। তারমধ্যে আমরা ১৮টিতে এগিয়ে ছিলাম। উনার ওয়ার্ডেও আমরা এগিয়ে ছিলাম। দম থাকলে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে দেখাক। বীরভূমে এসে চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি, ওদের খাতা খোলাতেও সমস্যা করে দেব। তৃণমূল সরকার এখন জেলগুলিতে সংস্কার করছে যাতে ওদের সমস্যা না হয়। একজন সাংসদ ভুবনেশ্বর ঘুরে এসেছেন। উনার কাছ থেকে জেলের অভিজ্ঞতা জেনে নিন। সেই অভিজ্ঞতাটা বেশিরভাগ নেতার হবে।’

মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বাঁকুড়ায় তিনদিন ছিলেন। উনি কি উন্নয়ন করেছেন লোক ওঁনাকে বুঝিয়ে দেবেন। দুবার হারিয়েছে, পঞ্চায়েতে আর লোকসভায়। লাজলজ্জা থাকলে জঙ্গলমহলে যেন গিয়ে মিথ্যা কথা না বলেন। অমিত শা যদি বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে আদিবাসীর বাড়িতে খেয়েছেন তাহলে আপনি সিঙ্গুরে হোটেল থেকে বিরিয়ানি নিয়ে এসে খেয়েছিলেন তো?’