বাংলাকে ‘গুজরাত’ বানাব: দিলীপ ঘোষ

305

কলকাতা: ভাইফোঁটার দিনও তৃণমূল-বিজেপি তরজা তুঙ্গে। সোমবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে চায়ে পে চর্চায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বাংলা দখলের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, একবার ভরসা করে দেখুন। বাংলাকে গুজরাট বানিয়ে দেব। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বেশিরভাগ বাঙালিরাই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কিন্তু এখন বাংলা থেকে শুধু পরিযায়ী শ্রমিক তৈরি হয। তাঁরা গুজরাটে কাজ করতে যান। বিজেপি বাংলা দখল করে গুজরাটের মতো উন্নয়ন করবে এই রাজ্যে।

দিলীপবাবুর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, বাংলাকে গুজরাট করতে দেব না। বাংলা গুজরাট হলে মানুষ মরবে এনকাউন্টারে। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে কটাক্ষ করে দিলীপবাবু বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনাকে বিরোধীশূন্য করে ছাড়বে বিজেপি। জেলা সভাপতি কোথায় দাঁড়াবেন শুধু বলুন। যে কেন্দ্রেই দাঁড়াবেন ওঁকে হারিয়ে দেব।

- Advertisement -

সেই ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে জ্যোতিপ্রিয়বাবু বলেন, আগে দিলীপবাবু নিজের কেন্দ্র খড়গপুর থেকে জিতে আসুক, তারপর তিনি উত্তর ২৪ পরগনা নিয়ে ভাববেন। উনি পাগলের প্রলাপ বকছেন। নিজেদের সংগঠনের জোর নেই। অথচ আমাদের হারানোর কথা বলছেন। পশ্চিমবঙ্গে ৭৭ হাজার বুথের মধ্যে ১০ হাজার বুথেও এজেন্ট দিতে পারবে না বিজেপি। আর উত্তর ২৪ পরগনায় তো ০-৩৩ হবে বিজেপি। ভোটের আগে ওরাই রাজ্যে অশান্তি করছে, অস্ত্র আমদানি করছে। গুজরাট কিংবা উত্তরপ্রদেশ মডেল এখানে চলবে না। এটা বাংলা। ২০২১-এর মে মাসের পর রাজ্যে যতগুলি বিজেপি নেতা আছে, সব জেলে ঢুকবে। এরা সব কেচ্ছা-কেলেঙ্কারিতে ভর্তি। মহিলাঘটিত মামলা থেকে টাকা চুরি সবই আছে।

এদিন দিলীপবাবু জানান, দলই তাঁদের কাছে সব। দল থেকেই তাঁরা জীবনে বাঁচার অক্সিজেন পান। সেই ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে রাজ্যের পঞ্চাযেমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা দল থেকে অক্সিজেন পান না। অক্সিজেন পান বাতাস থেকে। আর দল থেকে তাঁরা পান উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা। পুলিশের বিরুদ্ধেও রবিবার সন্ধ্যায় সরশুনার এক জনসভায় ফের বিতর্কিত মন্তব্য করেন মেদিনীপুরের সাংসদ। খবরের কাগজে পড়লাম, আমার বিরুদ্ধে নাকি কেস হয়েছে। চার্জশিট দিয়ে ওয়ারেন্টও বেরিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এক বিচিত্র গ্যাড়াকল চলছে। যার বিরুদ্ধে কেস সেই জানে না। যা বলেছিলাম, ঠিকই বলেছি। আবার বলছি, ঘুষ না দিলে পুলিশে চাকরি হয় না, প্রোমোশনও হয় না। এটা বলেছি বলে পুলিশের প্রেস্টিজেও লেগেছে। ঘোড়ার যেমন শিং, পুলিশের তেমন প্রেস্টিজ!