ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে কখনও যুদ্ধে জয় লাভ করা যায় না: দিলীপ

314
ছবিটি সংগৃহীত

কলকাতা: ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে কখনও যুদ্ধে জয় লাভ করা যায় না। মঙ্গলবার সকালে ইএম বাইপাসের ধারে রুবি হাসপাতালের কাছে চা চক্রে যোগ দিতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোরের নাম না করেই তৃণমূল কংগ্রেসকে এভাবেই দুষলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন দিলীপবাবু বলেন, ‘বিজেপি কখনও ভাড়াটে সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ করে না। বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা নিজেরাই নিজেদের গড় রক্ষা করার জন্য যুদ্ধে নামেন। আর তার জন্য তাদের মনোবল থাকে আরও অনেক বেশি দৃঢ়।’ সোমবার সুনিল দেওধর এরাজ্যে সাংগঠনিক বৈঠক করার জন্য এসেছেন। আর সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপবাবু বলেন, ‘দলের আইটি সেলকে মজবুত করাই হচ্ছে তাদের মূল লক্ষ্য।’

বাম কংগ্রেসের জোট নিয়েকরা প্রশ্নের উত্তরে দিলীপবাবু বলেন, ‘রাজ্যে কংগ্রেস ও বাম বলে কিছুই নেই। মানুষ তাদের অনেক বার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের কোনও উন্নয়ন করতে না পারার দরুণ রাজ্যবাসী তাদের অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন। আর এই দুই শক্তি যে তৃণমূলকে হটাতে পারবে না তা মানুষ ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘কারও ৭ শতাংশ কারও ৮ শতাংশ ভোট। সুতরাং মানুষের বিকল্প হিসেব বিজেপিকেই কাছে টেনে নিয়েছেন।’

- Advertisement -

নির্বাচন প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে দিলীপবাবু বলেন, ‘এবারের বিধানসভার ভোট হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো রাজ্য পুলিশকে দিয়ে নির্বাচন হবে না। তাই পাড়ার লোক এবার ঝাড়ু মেরে তাড়াবে তৃণমূল নেতৃত্বকে। আর তার সঙ্গে থাকবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এক মাসের মধ্যেই বিডিওদের খুঁজে বের করবে। এর জেরে তৃণমূল নেতৃত্ব তাদের প্রাসাদোপম বাড়িতে থাকতে পারবেন না। তাঁদের ঠাঁই হবে জেলে।’

দিলীপবাবুর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, ‘দিলীপবাবুর মন্তব্য হল দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য। প্রতিবারই নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে। আর কেন্দ্র বাহিনী তদারকিতেই নির্বাচন হয়। আসলে বিজেপির ক্যাডারদের মন ভেঙে গিয়েছে। তারা বুঝে গিয়েছে যে তৃণমূলী তৃতীয়বারের জন্য এরাজ্যে ক্ষমতায় আসছে। আর তাই তাদের মনোবলকে বাড়াতেই দিলীপবাবু উলটো পালটা মন্তব্য করছেন।

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে সৌগতবাবু বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন দিলীপবাবুই ইডির ডিরেক্টর।’ তিনি বলেন, ‘ইডি আগেও ছিল, এখনও আছে। এদের কাজই হল বেআইনি লেনদেনের উপর তদন্ত করা। আর তারা তা করছে। আসলে দিলীপবাবু রোজ সকালে উঠে তেলে ভাজার মতন মুখরোচক কিছু বলতে চান। তাই ওই সমস্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন।’ দিলীপবাবুকে আজেবাজে মন্তব্য বন্ধ করার অনুরোধও জানান সৌগতবাবু।