বর্ধমান আদালতে জামিন মঞ্জুর দিলীপ ঘোষের

458

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ার মামলায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল বর্ধমান আদালত। গ্রেপ্তারি এড়াতে বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষ বর্ধমান আদালতে হাজির হন। দুই হাজার টাকার বন্ডে বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ফের হাজিরার দিন ঠিক করা হয়েছে। ওই দিন হয়তো উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত আদালতে হাজিরা দিতে হবে। বিচারক দিলীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করায় এদিন বর্ধমান আদালত চত্বরেই উল্লাসে ফেটে পড়েন জেলা বিজেপির নেতা ও কর্মীরা।

- Advertisement -

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার সেহারাবাজারে সি-কে ইনস্টিটিউশন মাঠে বিজেপির সভা হয়। অভিযোগ, ওই সভায় নিজের বক্তব্যে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তাঁবেদারি না করলে, টাকা না দিলে পুলিশের চাকরি মেলেনা। প্রমোশনের জন্যও পুলিশকে টাকা দিতে হয়। এসপি থেকে ওসি পর্যন্ত সবাইকে টাকা তুলতে হয়। সেই টাকার বান্ডিল কালীঘাট পর্যন্ত যায়।’ ওই সভা থেকে এই ধরণের আরও কিছু আপত্তিকর মন্তব্য তিনি করেছিলেন বলে অভিযোগ।

রাজ্য বিজেপি সভাপতির এইসব মন্তব্যের বিষয়ে সেহারাবাজার ফাঁড়ির এক পুলিশ কর্মী অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরণের মন্তব্যের ফলে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয়, কটূক্তি ও নোংরা ভাষা প্রয়োগের ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের সম্পের্কে ঘৃণা তৈরি হয়েছে। পুলিশ কর্মীর দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩, ৫০৪ ও ৫০৫(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ করে দিলীপ ঘোষকে পলাতক দেখিয়ে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান আদালতে চার্জশিট পেশ করেন রায়নার সেহারাবাজার ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ উত্তাল সামন্ত। গত ১৩ নভেম্বর তদন্তকারী অফিসার বর্ধমান আদালতে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতেই এদিন দিলীপ ঘোষ বর্ধমান আদালতে হাজির হন। আদালত সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলার শক্তিগড়ে পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়া ও কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের উপরে হামলা চালানো সংক্রান্ত দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে। পুলিশ আদালতে ওইসব মামলারও চার্জশিট পেশ করেছে। বিচারের জন্য সেই দু’টি মামলা যদিও বারাসাতের বিশেষ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর আদালত কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন। এদিনও নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ওই দিন রায়নার জনসভা থেকে রাজ্যের পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দুরবস্থা এবং সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য ওই কথা বলেছিলাম। এটাই যে বাস্তব পরিস্থিতি তা সবাই জানেন। এই বক্তব্যে পুলিশের মানহানি হয়েছে বলে আমার বিরুদ্ধে পুলিশেরই একজন মামলা রুজু করেছে।’ দিলীপ ঘোষ এদিন দাবি করেন, ‘সেদিন যা বলেছিলাম তার থেকেও এখন অবস্থা আরও খারাপ। আজকে ‘ডিএ’ ছাড়া পুলিশকে ‘পে’ স্লিপে সই করতে হচ্ছে। ‘ডিএ’ না পেয়েও ‘ডিএ’ স্বীকার কড়তে হচ্ছে। শুধু পুলিশ ডিপার্টমেন্টই নয়, স্কুল ও কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে চাকরি সব ক্ষেত্রেই আজ পয়সা নেওয়া হচ্ছে। তারজন্য বহু লোকের নামে কেশও হয়েছে।’ তৃণমূল কংগ্রেসের নাম মুখে না এনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এই সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন এমন অবস্থার কোনও পরিবর্তন হবে না।