ভবানিপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণায় রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন দিলীপ

216
ছবিটি সংগৃহীত

দুর্গাপুর: রাজ্যে করোনা বিধিনিষেধের মধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ভবানিপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন করতে চাওয়ায় বঙ্গ বিজেপি যে ক্ষুব্ধ তা যতদিন যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে। এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন করতে চাওয়ার মধ্যে ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’ দেখতে পাচ্ছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোমবার সকালে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি দলের এক মহিলা সদস্যকে দেখতে এসে এমনই মন্তব্য করলেন দিলীপ।

দিন কয়েক আগে নিজেকে বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দেওয়া ঝর্ণা দাস নামে ওই মহিলা দুর্গাপুর পুরনিগমের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভ্যাকসিন নিতে যান। সেই সময় তাঁকে কাউন্সিলার হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেন মহিলার স্বামী। ওই ঘটনার পরেই মহিলা আত্মহত্যা করতে দুর্গাপুর ব্যারাজ সংলগ্ন দামোদর নদীতে ঝাঁপ দেন l কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তিনি রক্ষা পান। পরে তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিন ওই মহিলাকেই দেখতে হাসপাতালে যান দিলীপ।

- Advertisement -

এদিন হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে দিলীপ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে জিতিয়ে বিধায়ক করে মুখ্যমন্ত্রী পদে রেখে দিতে চাইছে। আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবে বিজেপি। নির্বাচন কমিশন পক্ষপাত-দুষ্ট কিনা, তাও আমরা দেখছি। কমিশন বলছে, এই মুহূর্তে রাজ্যে নির্বাচন করানোর মতো পরিস্থিতি নেই। অথচ কেন্দ্র নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন করার কথা ঘোষণা করে দিল।’

দিলীপ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের মতো ভবানিপুরেরও হেরে যান, তখন কী হবে? তিনি তো হেরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে সাংবিধানিক সংকট দেখা দেবে। এই সংকট তো তিনি নিজে তৈরি করেছেন।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিটিং মিছিল করলে কার বাবার ক্ষমতা আছে তা আটকাবে। কিন্তু বিজেপি মিটিং মিছিল করলেই গ্রেপ্তার করা হবে। কাউন্সিলারের লোকেরা বলছে, কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া উচিত। শিক্ষিকারা বিষ খাচ্ছে। ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে অপমানিত হয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে এক মহিলা। তাঁর অপরাধ শুধু সে বিজেপি করে। ৫০০ টাকা পাওয়ার জন্য মহিলাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইন দিতে হচ্ছে রাস্তায়। এর আগে এইভাবে বঙ্গ বিজেপির কোনও নেতাকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে এত চাঁছাছোলা ভাষায় একযোগে আক্রমণ করতে দেখা যায়নি। কেন্দ্রের শাসক দলের রাজ্য সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দিলীপ ঘোষের এমন মন্তব্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।