অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না দিলীপের, নিশ্চুপ পঞ্চায়েত

190

রায়গঞ্জ: দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে অসুস্থ ৩৩ বছরের দিলীপ। রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জের দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। তিন ছেলে, স্ত্রী ও মা নিয়ে তাঁর সংসার। হোটেলে সাহায্য করে কোনওমতে পরিবারের ৬ জনের খাবার জোটান তিনি। তবে, অসুস্থ হয়ে পড়ায় অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। বৃদ্ধা মা বীনা দাস ও স্ত্রী ফাল্গুনি দাস পরিচারিকার কাজ করে কোনওমতে অন্নসংস্থান করছেন। প্রতিবেশীরা চাঁদা তুলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাহায্য করলেও তা বেশিদিন সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুনীল হালদার আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে অক্ষম।

লকডাউনের শুরুতে অসুস্থ হয়ে পড়েন দিলীপ। আচমকাই পা, পেট ফুলে যায়। এরপর তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। চাঁদা তুলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেননি কেউই। বাধ্য হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে পড়ে রয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

অসুস্থ দিলীপ জানায়, খাবার জোগাড় করতে পারছি না, চিকিৎসা হবে কি করে। মা ও স্ত্রী মিলে দুবেলা ভাতের জোগাড় করছেন। মা বীনা দাস জানান, গ্রামবাসীরা ছিল বলে এতদিন চিকিৎসা করেছি। পঞ্চায়েত থেকে সাহায্য পেলে চিকিৎসা করাতে পারতাম দিলীপের স্ত্রী ফাল্গুনী দাস জানান, মানুষের বাড়ি কাজ করে কোনো মতে চলছে আমাদের। চিকিৎসা করার মতো ক্ষমতা নেই।

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কমল দেবশর্মা বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য কোনও টাকা পঞ্চায়েতে আসে না। তাই আমার কাছে আসলে ব্যাক্তিগত ভাবে সাহায্য করব।‘ ১০ নম্বর মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর সংসদের বিজেপি সদস্য সুনীল হালদার বলেন, আমি তো দিলীপের পাশে আছি। কিন্তু পঞ্চায়েত থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা দিতে পারছি না। কারণ আমাকে কিছুই দিচ্ছে না পঞ্চায়েত।