মেলা বন্ধ থাকলেও, নিয়ম মেনে ডিঙ্গি পুজো কৃষ্ণপুরে

205

তুফানগঞ্জ, ২৯ নভেম্বরঃ দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর গ্রামের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে শুরু হল চাঁদ সদাগরের ডিঙ্গি মেলা। এবার এই মেলায় কোনও দোকানপাট বসেনি। করোনা আবহে মেলার অনুমতি মেলেনি। যদিও, নিয়ম মেনেই দুই দিন চলবে পুজাে-অর্চনা চলবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবছর রাস পূর্নিমা তিথিতে পুজাে পান মা পদ্মা। পদ্মার সাথে পূজিত হন বেহুলা, লখিন্দরও। এই পূজাকে ঘিরে অন্যান্য বছর মেলা চলে দু’দিন। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে৷

কাঁটাতারের ভেতর ওই মন্দির দর্শনার্থীদের এদিন ভেতরে যাবার অনুমতি দেয় বিএসএফ। কিছুটা দুরেই বাংলাদেশ সীমান্ত থাকায় বিজিবির পক্ষ থেকেও কড়া পাহাড়া ছিল। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ উঁকি দিয়েই এই পুজাের আনন্দ উপভোগ করেন। সারাদিন কয়েক হাজার পূন্যার্থী মন্দিরে ভিড় জমিয়েছেন। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে বিএসএফ এবং তুফানগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে। পুলিশ কুকুর এনে এলাকার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ডিঙ্গি মেলায় উপস্থিত হয়েছিলেন।

- Advertisement -

কথিত আছে এই কৃষ্ণপুর এলাকা পূর্বে কৃষ্ণপুর বন্দর ছিল। এই এলাকাতেই চাঁদ সদাগরের সাতটি ডিঙ্গির মধ্যে একটি ডিঙ্গি ডুবে যায় । বহু বছর পর সেটি ভেসে ওঠে। সেসময় ভারত-বাংলাদেশ বিভক্ত হয়েছে। কাঁটাতারে সীমান্ত ঘেরা হয়েছে। সেটির ভেতরে ছিল ডিঙ্গিটি। জমিতে চাষ করতে কাঁটাতারের ওপারে গিয়ে তাঁরা অনেকেই ডিঙ্গির কাছে মনের কথা জানিয়ে ফল পেয়েছেন বলে শোনা যায়। যারা অবজ্ঞা করেছেন তাঁরা নানান ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমদিকে এই কথা কেউ মেনে নিতে চায়নি। এরপরই এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

এক মুসলিম যুবকের ঘরে কোনও সন্তান ছিল না। সে কাঁটাতার পার করে ডিঙ্গির কাছে মানত করে। এক বছরের মধ্যে ঘরে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সেই বছর থেকেই এই এলাকায় পুজো শুরু হয়। সেই কারনেই সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে মন্দিরটি আস্থার পেয়েছে বলে জানা যায়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ আস্থার সাথে মন্দিরে আসেন। রাস পূর্নিমার পূন্যতিথিতে পূজাও দেন।

কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা রতন কর্মকার, শ্যামগোপাল বর্মন, অতুল বর্মন, প্রদীপ সরকার, নজরুল ব্যাপারী প্রমুখ জানান, দেওচড়াই গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা। প্রতিবছর বহু লোকের সমাগমে মেলার উত্তোরত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে। ডিঙ্গি পুজাে হয়ে আসছিল আগে থেকেই। সলসলা বাড়ির এক মুসলিম যুবকের মনের কামনা পূর্ণ হওয়ায়, এই পুজাের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশের অনেক বাধা পেরিয়ে ডিঙ্গির ওপর একটি মন্দির স্থাপন হয়েছে। তবে মন্দিরে যাওয়ার রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন রয়েছে।

পুজাে উদ্যোক্তা শ্যমল বর্মন, নীলকমল বর্মন, প্রদীপ সরকার প্রমুখ জানান, প্রায় ১৮ বছর থেকে এই ডিঙ্গির মেলা চলছে। ইতিমধ্যেই মন্দিরের সংস্কার হয়েছে। মেলার উন্নতির পেছনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষেরও অনেক অবদান রয়েছে। মন্দিরের পাথরের মুর্তিটি দিয়েছেন তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের প্রাক্তন বিডিও রাজু লামা। আমরা মন্দিরে আসার রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছি।