তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিনহাটার গিতালদহ-১

394

দিনহাটা,  ১২ মার্চঃ তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দিনহাটার গিতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথ গ্রাম। বৃহস্পতিবার দুপুরের এই  সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন জখম হয়েছে।  এদের মধ্যে  ৩ জন গুরুতর জখম হয়ে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গন্ডগোলের  খবর পেয়ে দিনহাটা থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে রাহুল হোসেন এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে দিনহাটা থানার পুলিশ।
গত ২০১৮  সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই দিনহাটাতে তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। বিশেষ করে গিতালদহে প্রতি রাতেই চলত গুলি, বোমাবাজি। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই গত  পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে তৃণমূল যুবদের অধিকাংশকে দলের মূল সংগঠনে ফিরিয়ে আনা হলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় রাস্তার উন্নয়নমূলক কাজ কারা করবে এনিয়ে নতুন করে বিরোধ শুরু হয় গীতালদহ-১  গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে। এনিয়ে চাপা উত্তেজনা ছিল গিতালদহে। এরপর বৃহস্পতিবার জগন্নাথ গ্রামে একটি রাস্তার কাজকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। প্রথমে লাঠি বাটাম নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা করলেও পরবর্তীতে শুরু হয়ে যায় বোমাবাজি। চালানো হয় গুলিও।  গিতালদহ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবু আল আজাদ বলেন, ‘এলাকার তৃণমূল নেতা মাহফুজা রহমানের নেতৃত্বে জগন্নাথ গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য আজিজুল হকের অনুগামীরা রাস্তার কাজে গন্ডগোল করতে আসে এবং গুলি ও বোমা ছোড়ে।  তারাই এলাকাকে অশান্ত করে তুলছে’। যদিও এই ঘটনায় জগন্নাথ গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্যের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তৃনমুল নেতা মাফুজার রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি সারাদিন কোচবিহার ছিলাম। গন্ডগোলের খবর আমার জানা নেই’। দিনহাটা থানার পুলিশ জানিয়েছে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।