রাজনীতি প্রাচীর তুলবে না দীপেন্দু ও মহমেডানের সম্পর্কে

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : এখন ক্রীড়াজগতের দিকে তাকালেই দেখা যাবে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দাপাদাপি। বিশেষকরে বিভিন্ন ফেডারেশনের পালাবদল হয় কেন্দ্রীয় সরকারের বদলের সঙ্গে সঙ্গেই। সেখানে ক্ষমতার আস্ফালন অনেকবেশি। কিন্তু কলকাতার ময়দানী রাজনীতি চিরকালই বোধহয় অন্য পথে হেঁটেছে।

বাম-অবামে যেমন একটা সময়ে কোনো বিভেদ ছিল না। এখনও সম্ভবত সেই ধারাই অব্যাহত থাকতে চলেছে। অন্তত রাজ্য রাজনীতি যখন দুই ফুলের তরজায় সরগরম তখন নিঃশব্দে এখনও সহাবস্থান বজায় রাখার কথা ভেবে চলেছে ময়দানের বিভিন্ন ক্লাব। যার সদ্য উদাহরন দীপেন্দু বিশ্বাস ও মহমেডান ক্লাবের মধ্যেকার সম্পর্ক। এদিনই ঘাসফুল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন বসিরহাটের তৃণমূল বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস। যা শোনার পরেই ভ্রু কুঁচকেছে অনেকেরই। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে তো মহমেডান স্পোর্টিংয়ের মতো ক্লাব, যা বিশেষ একটি ধর্ম অবলম্বনকারিদের সমর্থনপুষ্ট, সেখানে দীপেন্দু জায়গা হওয়ার আর কোনও সুযোগ নেই? ঠিক এখানেই বেকুব বনতে চলেছেন এই সব প্রশ্ন তোলা লোকজন। কারণ খেলাধুলো জগতে ধর্ম একটাই। আর সেই ধর্মেই দীক্ষিত দীপেন্দু নিজে এবং অবশ্যই মহমেডানের কর্তাব্যক্তিরা। দুই তরফই জানিয়ে দিচ্ছেন, এই সম্পর্কে প্রাচীর ওঠার কোনো প্রশ্নই নেই।

- Advertisement -

সহ সভাপতি হলেও মহম্মদ কামারুদ্দিনই মোটামুটি শেষ কথা ক্লাবে। বহুদিন ধরে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। বিজেপিতে যোগ দেওয়া দীপেন্দুকে কি ফুটবল সচিব আর রাখা হবে, প্রশ্নটা করতেই স্বাভাবিক স্বরে পালটা প্রশ্ন ভেসে আসে, ক্লাবটার নাম মহমেডান বলে কি প্রশ্নটা করলেন ? কিন্তু আমাদের কাছে তো কোনওদিনই এগুলো বিচার্য ছিল না। দীপেন্দু তো চিরকালই আমাদের ঘরের ছেলে। ও ক্লাবে যেমন ছিল তেমনই থাকবে। এটা একটা ক্লাব, যেখানে খেলার গুরুত্বই বেশি। এটা কোনো রাজনৈতিক পার্টি তো নয়। এখানে চিরকালই সিপিআইএম, টিএমসি, কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাহলে বিজেপির লোক থাকতে অসুবিধা কোথায়? যদিও এরপর তিনি যোগ করেন, তবে দীপুকে ওর পার্টি না থাকতে দিলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। তবে আমরা চাই ও থাক। ও বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বলে ওকে আমরা ফুটবল সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেব, এমন ক্লাব মহমেডান নয়।

তাঁর বক্তব্যেরই সুর ভেসে এল দীপেন্দু বিশ্বাসের গলাতেও। মহমেডানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন? প্রশ্ন শেষ করার আগেই যে জোরাল স্বরটা ফোনের ওপ্রান্ত থেকে ভেসে আসে সেটা কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, প্রাক্তন ফুটবলারের গলা, কেন রাখব না? ওটা আমার ক্লাব। ওখান থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই নেই। মহমেডানে যেমন ছিলাম তেমনি থাকব। সরাসরি কিছু না বলেও ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, এই বিষয়ে সম্ভবত তাঁর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বেরও কথা হয়েছে। তাই এই জায়গাটাকে তিনি রাজনীতি থেকে আলাদাই রাখছেন। আর সেটা হৃদয়ে একেবারে অন্দরে।