কেউ গোখরো, কেউ বাঘিনী, নির্বাচনি লড়াই নাকি চিড়িয়াখানা, কটাক্ষ দীপ্সিতার

181

কালিয়াগঞ্জ: একজন বলছেন, আমি জাত গোখরো। আরেকজন বলছেন, আমি বাঘিনী। এটা কি নির্বাচনি লড়াই নাকি চিড়িয়াখানা? ভোট প্রচার শেষ হওয়ার একদিন আগে কালিয়াগঞ্জে এসে এভাবেই বিরোধীদের একহাতে নিলেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক দীপ্সিতা ধর। রবিবার কালিয়াগঞ্জের সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী প্রভাস সরকারের সমর্থনে সভায় বক্তব্য রাখেন দীপ্সিতা। কালিয়াগঞ্জ শহরের স্থানীয় বিবেকানন্দ মোড় এবং ব্লকের মোস্তাফানগরের কুনোরে পথসভা করেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের জেলা নেতা ভারতেন্দ্র চৌধুরী, ডিওয়াইএফআইয়ের নেত্রী ঐষাণী বাগচী, অয়ন দত্ত, মীনাক্ষ ঘোষ কংগ্রেস নেতা সুজিত দত্ত, তুলসি জয়সোয়াল প্রমুখ।

দীপ্সিতা বলেন, ‘সুবিধাবাদী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক, সাংসদ হওয়ার লোভে রাজ্যের নেতারা নিজেদের শিরদাঁড়া বিক্রি করছেন। কৃষি আমাদের ভিত, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। বাংলায় গত দশ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে নজির সৃষ্টি করেছে তৃণমূল সরকার। করোনায় আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় মানুষ হাসপাতালে যায়, এদিকে তৃণমূল দলে কারও শ্বাসকষ্ট হলে বিজেপিতে যাওয়া শুরু করেছে। টুকে পাশ করা শিক্ষামন্ত্রীর দরকার নেই এই রাজ্যে। ভারতবর্ষের মানুষ গুজরাতের দাঙ্গা, বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছেন। সেসময়ে একজন হিন্দু ও মুসলমান ভাইয়েদের মধ্যে তার আঁচটুকু এসে পড়েনি বামশাসিত এই রাজ্যে। একসময় এই রাজ্যে হিন্দু ও মুসলমানরা মাথা উঁচু করে বাংলার মাটিতে বসবাস করতেন। বিজেপি চাইছে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে। বিজেপি নেতারা বাংলা এসে বলে আমরা এলে দুর্গাপুজো হবে। তাঁদের কি চোখে পড়ছে না যে রাজ্যে ছোট, বড় মিলিয়ে ৩৫ হাজার দুর্গাপুজো হয়। হিন্দু ধর্ম আজ সংকটে বলে ভাষণ দিচ্ছেন বিজেপির বহিরাগত সহ স্থানীয় নেতারা। সত্যি আজ হিন্দুরা সংকটে কারণ, আমরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর জায়গায় একজন ডাকাত, চোর এবং ব্যবসায়ীকে নির্বাচন করেছি।’

- Advertisement -

কৃষকদের আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে দীপ্সিতা বলেন, ‘ভারতবর্ষে কৃষকদের জীবন অন্ধকারে ঠেলে দিতে চাইছে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। কৃষি আইন বিলের বিরুদ্ধে আমরা গোটা দেশে সোচ্চার হয়েছি। কৃষকদের আত্মহত্যা ঘটনা বেড়ে চলেছে। তিনশোর উপরে কৃষক এই আন্দোলনে শামিল হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। এই কেন্দ্র শাসিত বিজেপি সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশে হিন্দু দলিত কন্যার সঙ্গে হাথরসের মত ঘটনা ঘটে চলেছে।’